
আজ ৩০ সেপ্টেম্বর, জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। শিক্ষাক্ষেত্রে কন্যাশিশুদের অংশগ্রহণ বাড়লেও মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে তাদের ঝরে পড়ার হার এখনো উদ্বেগজনক।
সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ ও উপবৃত্তির কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে-মেয়ের অংশগ্রহণেও এসেছে তুলনামূলক সমতা।
তবে মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ব্যানবেইস ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপাত্ত অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার প্রায় ৩০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি—প্রায় ৩৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
মেয়েদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ার অন্যতম বড় কারণ বাল্যবিবাহ। বিবিএসের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ মেয়ে বাল্যবিবাহের কারণে পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়ে।
শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করলেই হবে না; কন্যাশিশুকে শিক্ষার সঙ্গে ধরে রাখতে নিরাপদ পরিবেশ, আর্থিক সহায়তা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
কারণ, একটি কন্যাশিশুর শিক্ষা শুধু তার নিজের ভবিষ্যৎ নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, সমাজ এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন। তাই কন্যাশিশুর শিক্ষার সুযোগের পাশাপাশি শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

