
গায়ক, সুরকার, সংগীতায়োজক ও চিত্রশিল্পী—বখতিয়ার হোসেন। সংগীতের পাশাপাশি চিত্রকলাতেও নিজের আলাদা জগৎ তৈরি করেছেন তিনি। আজ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়—বুয়েটের ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত ‘অমিত্রাক্ষরের সূচনাস্বর’ কনসার্টে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন বখতিয়ার।
এ আয়োজনে নিজের তৈরি নতুন গানগুলো দর্শক-শ্রোতাদের শোনানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ‘বখতিয়ার–দ্য আর্টম্যান’ নামে কয়েকজন মিউজিশিয়ানকে নিয়ে মঞ্চে উঠবেন তিনি। তবে এটিকে নতুন কোনো ব্যান্ড হিসেবে দেখছেন না বখতিয়ার।
সংগীতে নিজের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে বখতিয়ার জানান, গান গাওয়া, গীতিকথা লেখা, সুর ও সংগীতায়োজন—সব ক্ষেত্রেই তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে চেয়েছেন। তাঁর ভাষায়, মাঝের সময়ে সেই স্বাধীনতা হারিয়ে ফেললেও এখন তা আবার ফিরে পেয়েছেন।
‘বে অব বেঙ্গল’ ব্যান্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যান্ডটির বেশির ভাগ গান তাঁর লেখা ও সুর করা। তবে সময়ের সঙ্গে ব্যান্ডের নিজস্বতা কিছুটা হারিয়ে যাচ্ছিল বলে মনে হয়েছে তাঁর। সংগীত নিয়ে নিজের দর্শন ও প্রত্যাশার অনেক কিছুই পূরণ হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ব্যান্ড ছেড়ে স্বাধীনভাবে সৃষ্টিশীল কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
আর্টসেলে অতিথি শিল্পী হিসেবে পারফর্ম করা নিয়েও কথা বলেছেন বখতিয়ার। জানান, ব্যান্ডটির সদস্য লিংকন বিদেশে থাকায় তাঁর জায়গায় অতিথি শিল্পী হিসেবে পারফর্ম করার প্রস্তাব পেয়েছেন। লিংকন ফিরলে তাঁর কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন বলেও জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বখতিয়ার বলেন, নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য পূরণের জন্য গান করছেন না। এখন তাঁর একমাত্র চাওয়া, ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাওয়া। সংগীতের পাশাপাশি ক্যানভাসেও চলছে তাঁর সৃষ্টির ব্যস্ততা। প্রকৃতিপ্রেমী বখতিয়ার নিয়মিত ছবি আঁকছেন। সুযোগ পেলেই প্রকৃতির নানা প্রান্তে গিয়ে ছবি আঁকার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
নিজের আঁকা ছবিগুলো নিয়ে একক প্রদর্শনীরও ইচ্ছা আছে বখতিয়ারের। তবে সেই আয়োজন কবে হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। গান আর রঙ-তুলির দুই ভুবনেই নিজের স্বাধীন সৃষ্টিশীলতা ধরে রেখে এগিয়ে যেতে চান বখতিয়ার হোসেন।

