
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের টাইগ্রে অঞ্চলে ফের তীব্র সংঘর্ষ। তিন দিনের লড়াইয়ে অন্তত ৫২ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি। সংঘর্ষে আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭০০ জনের বেশি। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে লালিবেলায় আটকা পড়েছেন বিদেশি পর্যটকরাও।
ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলের আলামাতা শহর ও আশপাশে কয়েক দিন ধরে চলছে তীব্র লড়াই। হাসপাতাল সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, তিন দিনের সংঘর্ষে অন্তত ৫২ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।
আলামাতা জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, শহর ও আশপাশের এলাকায় ভারী বিস্ফোরক ও কামান ব্যবহার করা হয়েছে। একটি হামলায় বাজারঞ্চলিক যোদ্ধাদের কাছ থেকে আলামাতা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এরপর তারা টাইগ্রের প্রধান শহর মেকেলের দিকে এগে একসঙ্গে ১২ জন নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি বাহিনী আঞ্চলিক যোদ্ধাদের কাছ থেকে আলামাতা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এরপর তারা টাইগ্রের প্রধান শহর মেকেলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সংঘর্ষের প্রভাব পড়েছে পর্যটননির্ভর শহর লালিবেলাতেও। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের এই শহরে এক সপ্তাহ ধরে লড়াই, গুলির শব্দ ও ভারী কামানেরেছিলেন কয়েক ডজন পর্যটক। সোমবার সামরিক হেলিকপ্টারে করে ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য গোলার শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন এক ব্রিটিশ পর্যটক।
বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সেখানে আটকা পড়েছিলেন কয়েক ডজন পর্যটক। সোমবার সামরিক হেলিকপ্টারে করে ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক সেখানে আটকা রয়েছেন।
এদিকে সংঘর্ষের কারণে টাইগ্রেতে ব্যাংকিং সেবা ও ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত। ফলে সংঘর্ষ থেকে পালিয়ে আসা মানুষের মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে।
২০২২ সালে দুই বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানে যে শান্তিচুক্তি হয়েছিল, সাম্প্রতিক সংঘর্ষকে সেই চুক্তির জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নতুন করে সংঘর্ষ কে শুরু করেছে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও টাইগ্রের নেতাদের পরস্পরবিরোধী দাবি রয়েছে। পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়া জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

