আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের পাশে রেলগেট স্থাপনের দাবি: তিন যুগ ধরে জনদুর্ভোগ
- আপডেট সময় : ১১:৪৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে একটি রেলগেট স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের মতে, প্রায় তিন যুগ পেরিয়ে গেলেও এ দাবির বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এলাকার সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি খোলা চিঠিও দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জানা যায়, আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের প্রায় ১০০ গজ উত্তরে এপার-ওপার যাতায়াতের সুবিধার্থে রেলগেট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ১৯৮৬–৮৮ সালের দিকে। সে সময় কামালপুর গ্রামের কৃতি সন্তান ও তৎকালীন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মরহুম নিজাম উদ্দিনের উদ্যোগে সেখানে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয় এবং রাস্তা রেললাইনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, সেখানে শিগগিরই একটি রেলগেট ও গেটম্যান নিয়োগ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সুবিধা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে ২০০০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেন।
এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই উদ্যোগ আর বাস্তবায়িত হয়নি। স্থানীয়রা জানান, গাংনী, হাটবোয়ালিয়া, ভাংবাড়িয়া, আসমানখালি, হারদী, ওসমানপুর, যাদবপুর, কুমারী, কামালপুর, শ্যামপুর, পোলতাডাঙ্গা, মহেশপুর, দুর্গাপুর, বাজিতপুরসহ আশপাশের বহু গ্রামের মানুষ প্রতিদিন আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরাও নিয়মিত এই পথে চলাচল করেন।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/03/17/রাসিকের-দায়িত্ব-গ্রহণ-ক/
উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হাট বোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেবাবাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হারদী এম এস জোহা ডিগ্রি কলেজ, মীর শামসুদ্দিন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ওসমানপুর-পরাগপুর সিনিয়র মাদ্রাসা, পোলতাডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শ্যামপুর মাদ্রাসা, কুমারী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুমারী ভেটেরিনারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ভিটিআই) ও কামালপুর মহিউদ্দিন একাডেমি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেলগেট না থাকায় মানুষকে প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে অন্য পথ দিয়ে পারাপার করতে হয়। অনেক সময় ট্রেনের হুইসেল শোনার পরও দ্রুত পারাপার করা সম্ভব না হওয়ায় যাত্রীরা ট্রেন ধরতে পারেন না। ফলে প্রতিদিনই ট্রেন মিস করার ঘটনা ঘটছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/03/17/গোপালগঞ্জ-জেলার-মুকসুদপু/
এলাকাবাসীর আরও দাবি, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজশাহী বা অন্যান্য শহরে নিতে প্রায়ই আলমডাঙ্গা স্টেশনে আসতে হয়। কিন্তু সহজ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত সেখানে একটি রেলগেট ও গেটম্যান নিয়োগ করা হলে জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। এ বিষয়ে তারা চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্যের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এ জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে।




















