ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

আলমডাঙ্গায় আগাছানাশকের বিষে ধান পুড়ে ছাই, বিপাকে কৃষক – বিষ বিক্রেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা): 
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে

আগাছানাশকের বিষে ধান পুড়ে ছাই, বিপাকে কৃষক

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে আগাছা দমনের জন্য প্রয়োগ করা আগাছানাশক বিষে ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় এক বিষ বিক্রেতার বিরুদ্ধে নিম্নমানের বা ভেজাল কৃষি উপকরণ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মস্তক আলী, যিনি মৃত আসমান মন্ডলের ছেলে, জানান— প্রায় এক মাস আগে তিনি নিজের ধানক্ষেতে আগাছা দমনের উদ্দেশ্যে আলমডাঙ্গার হাফিজ মোড় রোডের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে একটি আগাছানাশক ক্রয় করেন।

কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় পুনরায় ওই বিক্রেতার কাছে গেলে তাকে ভিন্ন আরেকটি বিষ সরবরাহ করা হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দ্বিতীয়বার দেওয়া বিষ জমিতে স্প্রে করার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই ধানের গাছ গোড়া থেকে পুড়ে যেতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে যায়, যা তার একমাত্র আয়ের উৎস ছিল। এতে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। মস্তক আলী আরও জানান, বিষয়টি বিক্রেতাকে জানালে তিনি প্রথমে ঈদের ছুটির অজুহাত দেখিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে সমাধানের আশ্বাস দেন। ঈদের পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/03/29/চুয়াডাঙ্গায়-সংঘবদ্ধ-ধর/

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি অন্য স্থান থেকে বিষ সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ ছাড়া বিষ বিক্রি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী চললে ধান উৎপাদন সম্ভব নয়।” অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও তার বিরুদ্ধে নকল দস্তা সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। সর্বশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যথাযথ নজরদারি না থাকলে এ ধরনের প্রতারণা আরও বাড়তে পারে। এদিকে, অভিযোগ উঠেছে— ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী মহলের সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/03/29/যশোরে-বহিষ্কৃত-সাবেক-যুব/

স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কৃষকের ঘামে ফলানো ফসলই দেশের খাদ্যনিরাপত্তার ভিত্তি। সেই ফসল যদি ভেজাল বা নিম্নমানের কৃষি উপকরণের কারণে নষ্ট হয়ে যায়, তবে তা শুধু একজন কৃষকের নয়— সমগ্র কৃষি ব্যবস্থার জন্যই হুমকিস্বরূপ। তাই এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আলমডাঙ্গায় আগাছানাশকের বিষে ধান পুড়ে ছাই, বিপাকে কৃষক – বিষ বিক্রেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে আগাছা দমনের জন্য প্রয়োগ করা আগাছানাশক বিষে ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় এক বিষ বিক্রেতার বিরুদ্ধে নিম্নমানের বা ভেজাল কৃষি উপকরণ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মস্তক আলী, যিনি মৃত আসমান মন্ডলের ছেলে, জানান— প্রায় এক মাস আগে তিনি নিজের ধানক্ষেতে আগাছা দমনের উদ্দেশ্যে আলমডাঙ্গার হাফিজ মোড় রোডের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে একটি আগাছানাশক ক্রয় করেন।

কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় পুনরায় ওই বিক্রেতার কাছে গেলে তাকে ভিন্ন আরেকটি বিষ সরবরাহ করা হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দ্বিতীয়বার দেওয়া বিষ জমিতে স্প্রে করার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই ধানের গাছ গোড়া থেকে পুড়ে যেতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে যায়, যা তার একমাত্র আয়ের উৎস ছিল। এতে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। মস্তক আলী আরও জানান, বিষয়টি বিক্রেতাকে জানালে তিনি প্রথমে ঈদের ছুটির অজুহাত দেখিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে সমাধানের আশ্বাস দেন। ঈদের পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/03/29/চুয়াডাঙ্গায়-সংঘবদ্ধ-ধর/

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি অন্য স্থান থেকে বিষ সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ ছাড়া বিষ বিক্রি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী চললে ধান উৎপাদন সম্ভব নয়।” অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও তার বিরুদ্ধে নকল দস্তা সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। সর্বশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যথাযথ নজরদারি না থাকলে এ ধরনের প্রতারণা আরও বাড়তে পারে। এদিকে, অভিযোগ উঠেছে— ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী মহলের সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/03/29/যশোরে-বহিষ্কৃত-সাবেক-যুব/

স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কৃষকের ঘামে ফলানো ফসলই দেশের খাদ্যনিরাপত্তার ভিত্তি। সেই ফসল যদি ভেজাল বা নিম্নমানের কৃষি উপকরণের কারণে নষ্ট হয়ে যায়, তবে তা শুধু একজন কৃষকের নয়— সমগ্র কৃষি ব্যবস্থার জন্যই হুমকিস্বরূপ। তাই এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখন সময়ের দাবি।