ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের ‘পদধ্বনি’—শব্দে শব্দে প্রাণের স্পন্দন

বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা:
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের ‘পদধ্বনি’—শব্দে শব্দে প্রাণের স্পন্দন

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শব্দের ভেতরেই যেন জীবনের স্পন্দন। কবিতার ছন্দে, উচ্চারণের উষ্ণতায় আর মননের গভীরতায় আবারও মুখর হয়ে উঠল চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর ‘পদধ্বনি’। ধারাবাহিকতার গৌরবে এবার অনুষ্ঠিত হলো এর ১৬১২তম পর্ব—একটি সংখ্যা, যা কেবল পরিসংখ্যান নয়; বরং সাহিত্যচর্চার দীর্ঘ পথচলার এক উজ্জ্বল সাক্ষ্য।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/04/ফেসবুককেন্দ্রিক-সাংবাদ/

গতকাল আলমডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গা বিকেল ৪টায় সাহিত্য পরিষদ মিলনায়তনে বসে এ প্রাণের আসর। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ, আর সঞ্চালনায় ছিলেন অর্থ সম্পাদক মিম্মা সুলতানা মিতা। শুরু থেকেই ছিল এক আন্তরিই এবং হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ—যেখানে শব্দ হয়ে উঠেছে অনুভূতির ভাষা। এক এক করে মঞ্চে উঠেছেন কবি ও সাহিত্যিকরা। স্বরচিত কবিতায় তাঁরা তুলে ধরেছেন জীবনের নানা অনুষঙ্গ—প্রেম, বিরহ, সমাজ, সময় ও স্বপ্নের গল্প। সুমন মালিক, আবু নাসিফ খলিল, গুরু কাজল মল্লিক, আব্বাসউদ্দীন, হারুন অর রশিদ, গোলাম কবীর মুকুল, জাকিয়া সুলতানা ঝুমুর, মো. সাহেদ আলি, শেখ সেলিম, মর্জিনা খাতুন ও কাজল মাহমুদের কণ্ঠে প্রতিটি কবিতা যেন নতুন করে ছুঁয়ে গেছে উপস্থিতদের মন।

অন্যদিকে নিবন্ধ পাঠের মধ্য দিয়ে মননশীল আলোচনার দুয়ার খুলে দেন মো. শহিদুল ইসলাম। আসরের এক বিশেষ আকর্ষণ ছিল চিরায়ত সাহিত্য থেকে কবিতা আবৃত্তি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা আবৃত্তি করেন বটবৃক্ষ সরদার আলী হোসেন। তাঁর আবৃত্তির আবেগময় উপস্থাপনা উপস্থিতদের মনে দাগ কেটে যায়, সৃষ্টি করে এক অনন্য অনুভূতির আবহ।শুধু পাঠেই সীমাবদ্ধ থাকেনি ‘পদধ্বনি’। পাঠিত কবিতা ও লেখার ওপর গঠনমূলক মূল্যায়নধর্মী আলোচনা করেন ইকবাল আতাহার তাজ, মো. তৌহিদ হোসেন, সরদার আলী হোসেন ও আবু নাসিফ খলিল। তাঁদের বিশ্লেষণ লেখকদের সামনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির দ্বার উন্মোচন করে, সাহিত্যচর্চাকে করে আরও সমৃদ্ধ।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/05/বদলগাছীতে-কৃষকদের-মাঝে-ব/

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বনলতা, শেখ পিন্টু ও অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সীসহ স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমীরা। তাঁদের উপস্থিতি আসরকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ সাহিত্যচর্চার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর কথায় ফুটে ওঠে—সাহিত্য কেবল বিনোদন নয়, এটি সমাজ ও মানবিকতার দর্পণ।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/05/চুয়াডাঙ্গায়-ফুয়েল-স্ট/

আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পর অনুষ্ঠিত হয় পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা। সেখানে আসন্ন পহেলা বৈশাখ উদযাপনসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, যা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ইঙ্গিত দেয়। চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের ‘পদধ্বনি’ আসর যেন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি এক অনুভব, এক মিলনমেলা, যেখানে শব্দের মাধ্যমে মানুষ খুঁজে পায় নিজের ভেতরের মানুষটিকে। এই ধারাবাহিক পদচারণা এগিয়ে যাক আরও বহুদূর—সাহিত্যের আলোয় আলোকিত হোক আগামী প্রজন্ম।

নিউজটি শেয়ার করুন

চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের ‘পদধ্বনি’—শব্দে শব্দে প্রাণের স্পন্দন

আপডেট সময় : ১২:০৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

শব্দের ভেতরেই যেন জীবনের স্পন্দন। কবিতার ছন্দে, উচ্চারণের উষ্ণতায় আর মননের গভীরতায় আবারও মুখর হয়ে উঠল চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর ‘পদধ্বনি’। ধারাবাহিকতার গৌরবে এবার অনুষ্ঠিত হলো এর ১৬১২তম পর্ব—একটি সংখ্যা, যা কেবল পরিসংখ্যান নয়; বরং সাহিত্যচর্চার দীর্ঘ পথচলার এক উজ্জ্বল সাক্ষ্য।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/04/ফেসবুককেন্দ্রিক-সাংবাদ/

গতকাল আলমডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গা বিকেল ৪টায় সাহিত্য পরিষদ মিলনায়তনে বসে এ প্রাণের আসর। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ, আর সঞ্চালনায় ছিলেন অর্থ সম্পাদক মিম্মা সুলতানা মিতা। শুরু থেকেই ছিল এক আন্তরিই এবং হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ—যেখানে শব্দ হয়ে উঠেছে অনুভূতির ভাষা। এক এক করে মঞ্চে উঠেছেন কবি ও সাহিত্যিকরা। স্বরচিত কবিতায় তাঁরা তুলে ধরেছেন জীবনের নানা অনুষঙ্গ—প্রেম, বিরহ, সমাজ, সময় ও স্বপ্নের গল্প। সুমন মালিক, আবু নাসিফ খলিল, গুরু কাজল মল্লিক, আব্বাসউদ্দীন, হারুন অর রশিদ, গোলাম কবীর মুকুল, জাকিয়া সুলতানা ঝুমুর, মো. সাহেদ আলি, শেখ সেলিম, মর্জিনা খাতুন ও কাজল মাহমুদের কণ্ঠে প্রতিটি কবিতা যেন নতুন করে ছুঁয়ে গেছে উপস্থিতদের মন।

অন্যদিকে নিবন্ধ পাঠের মধ্য দিয়ে মননশীল আলোচনার দুয়ার খুলে দেন মো. শহিদুল ইসলাম। আসরের এক বিশেষ আকর্ষণ ছিল চিরায়ত সাহিত্য থেকে কবিতা আবৃত্তি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা আবৃত্তি করেন বটবৃক্ষ সরদার আলী হোসেন। তাঁর আবৃত্তির আবেগময় উপস্থাপনা উপস্থিতদের মনে দাগ কেটে যায়, সৃষ্টি করে এক অনন্য অনুভূতির আবহ।শুধু পাঠেই সীমাবদ্ধ থাকেনি ‘পদধ্বনি’। পাঠিত কবিতা ও লেখার ওপর গঠনমূলক মূল্যায়নধর্মী আলোচনা করেন ইকবাল আতাহার তাজ, মো. তৌহিদ হোসেন, সরদার আলী হোসেন ও আবু নাসিফ খলিল। তাঁদের বিশ্লেষণ লেখকদের সামনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির দ্বার উন্মোচন করে, সাহিত্যচর্চাকে করে আরও সমৃদ্ধ।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/05/বদলগাছীতে-কৃষকদের-মাঝে-ব/

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বনলতা, শেখ পিন্টু ও অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সীসহ স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমীরা। তাঁদের উপস্থিতি আসরকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ সাহিত্যচর্চার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর কথায় ফুটে ওঠে—সাহিত্য কেবল বিনোদন নয়, এটি সমাজ ও মানবিকতার দর্পণ।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/05/চুয়াডাঙ্গায়-ফুয়েল-স্ট/

আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পর অনুষ্ঠিত হয় পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা। সেখানে আসন্ন পহেলা বৈশাখ উদযাপনসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, যা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ইঙ্গিত দেয়। চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের ‘পদধ্বনি’ আসর যেন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি এক অনুভব, এক মিলনমেলা, যেখানে শব্দের মাধ্যমে মানুষ খুঁজে পায় নিজের ভেতরের মানুষটিকে। এই ধারাবাহিক পদচারণা এগিয়ে যাক আরও বহুদূর—সাহিত্যের আলোয় আলোকিত হোক আগামী প্রজন্ম।