কুলাউড়ায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে ইতিবাচক পরিবর্তন: বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও আগ্রহ
- আপডেট সময় : ০৩:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পুনরায় চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে শিক্ষাক্ষেত্রে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। নিয়মিত পুষ্টিকর টিফিন বিতরণের ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং তাদের পড়াশোনায় ফিরে এসেছে নতুন উদ্দীপনা। উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠছে স্কুল প্রাঙ্গণ। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহভিত্তিক রুটিন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে কলা, রুটি, সিদ্ধ ডিম, ইউএইচটি দুধসহ পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এসব খাবার শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করে তুলছে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/08/রাজশাহী-জেলা-পরিষদের-প্র/
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে অনেক শিক্ষার্থী খালি পেটে স্কুলে আসত, ফলে ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ত। বর্তমানে টিফিন পাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে ক্লাসে অংশ নিচ্ছে এবং তাদের শেখার আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, “স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে সহায়ক হবে।” উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খোর্শেদ আলম বলেন, “এই কার্যক্রমের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলে আসার আগ্রহ বেড়েছে এবং ঝরে পড়ার হার কমেছে। আমরা চাই এই কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হোক।” স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম কুলাউড়ার প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে এর পরিসর আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
আরওপড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/08/রাজশাহীতে-আরএমপির-মাদকব/
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া রোধ এবং উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)-এর সহযোগিতায় ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। নতুন এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৩১ লাখ শিশুকে সপ্তাহে ৫ দিন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলবে।এর অংশ হিসেবে কুলাউড়া উপজেলার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কর্মসূচির অধীনে শিক্ষার্থীদের ফর্টিফাইড বিস্কুট, বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, ইউএইচটি দুধ এবং স্থানীয় মৌসুমী ফল সরবরাহ করা হচ্ছে। জানা গেছে, এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম এন্টারপ্রাইজসহ মোট তিনটি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পালন করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কর্মসূচি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।




















