সুন্দরবনে দস্যু দমনে “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শীল্ড” অভিযান শুরু
- আপডেট সময় : ১২:১৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। রবিবার (১২ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বনজ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমন এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
গত দেড় বছরে করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু দলের মোট ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অভিযানে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি ফাঁদসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী জব্দ এবং ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা সমমূল্যের অবৈধ জাল ও বিপুল পরিমাণ রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/15/নড়াইলে-হিন্দু-সম্প্রদায/
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কোস্ট গার্ড সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সুযোগে কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানানো হয়। এ প্রেক্ষিতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ-এর নির্দেশনায় বনদস্যুদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” পরিচালিত হচ্ছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বন বিভাগ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ফলপ্রসূ হয়েছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/15/দুইবার-তেল-নিতে-এসে-ধরাখে/
বনদস্যু বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে হারবারিয়া, কৈখালী, কয়রা, নলিয়ান, মান্দারবাড়ি ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ সমগ্র সুন্দরবন এলাকায় বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে জেলে, বাওয়ালি ও স্থানীয় জনগণের ওপর দস্যুদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ হ্রাস পেয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে সুন্দরবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। শেষে তিনি বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার জনগণের জানমাল রক্ষা ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ড সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। দস্যু চক্র সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।






















