ভ্রূণের লিঙ্গ প্রকাশ নিষিদ্ধে কঠোর নির্দেশ হাইকোর্টের
- আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এই রায় ঘোষণা করেন, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে সোমবার (১১ মে)।
রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং কন্যাশিশুর প্রতি সামাজিক অবমূল্যায়ন ও ঝুঁকি বাড়ায়। এটি নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের পরিপন্থি বলেও উল্লেখ করা হয়।আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, এ ধরনের চর্চা শুধু সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে না, বরং সাংবিধানিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালারও লঙ্ঘন ঘটায়।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/11/আলমডাঙ্গার-খামারে-দানবাক/
হাইকোর্ট আরও বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে দীর্ঘদিন কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং ব্যবস্থা ছিল না। শুধু নীতিমালা থাকলেই হবে না, বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। রায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—ছয় মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে, যেখানে নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত ভ্রূণ-সংক্রান্ত রিপোর্ট সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।
আদালত আরও বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি করে, যা সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই রায়কে আদালত “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এর বাস্তবায়ন নিয়মিত তদারকি করা যায়।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/11/বাজারে-কারসাজি-রোধে-কৃত্/
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এই বিষয়ে রিট দায়ের করেন। শুনানিতে তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।


























