আলীকদমে আইন-শৃঙ্খলা সভায় হাম পরিস্থিতি, হাসপাতাল নির্মাণ, নদী ও বন রক্ষায় একাধিক সিদ্ধান্ত
- আপডেট সময় : ১২:১৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা উপজেলার সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, হেডম্যান-কার্বারী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় ও আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) সকালে আলীকদম উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি। সভায় সভাপতিত্ব করেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আলীকদম সেনা জোনের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ পুলিশ এর আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, হেডম্যান, কার্বারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন। সভায় আলীকদম উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দুর্গম এলাকার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে সম্প্রতি দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। সভায় কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুর্গম এলাকায় নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সপ্তাহে সাত দিন ডাক্তার পাঠানোর সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।
এছাড়া কুরুকপাতা ও পোয়ামুহুরী এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ হিসেবে দুই একর জমি দানের বিষয়টি সভায় জানানো হয়। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বাস্থ্য কার্ড ও কৃষি কার্ড প্রদান কার্যক্রম চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়। সভায় পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয় মাতামুহুরী নদী, বাকখালী নদী ও সাঙ্গু নদী নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে বনভূমি রক্ষা, পাহাড়ি ঝিরির পানি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অবৈধভাবে পাথর, বালু ও গাছ কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়।
হেডম্যান ও কার্বারীদের জুম চাষের ক্ষেত্রে পরিবেশগত সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। পাহাড়ি ঝিরির পানি ধরে রাখা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণকে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি বলেন, “ইকোনোমিক, পানি ও পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে ১৪টি জাতিসত্ত্বাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা এক পিতার এক ভাইয়ের মতো মিলেমিশে থাকতে চাই। সকলকে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে সার্বজনীন কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “সব সমস্যা একদিনে সমাধান হবে না। যেটা আগে প্রয়োজন, সেটাকেই আগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।” পরিবেশ রক্ষায় নদী ও ঝিরি-খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে দলের ভাবমূর্তি বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। সবাই প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন।”
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




















