কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
চুয়াডাঙ্গায় সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় ডিসি লুৎফুন নাহার
- আপডেট সময় : ০২:১৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গায় সার ও বীজ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ডিলার সিন্ডিকেট, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির মতো অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
গতকাল বুধবার বিকেল তিনটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার কৃষি খাতের বর্তমান অবস্থা, সার সরবরাহ, মজুদ পরিস্থিতি ও কৃষকবান্ধব বিতরণ ব্যবস্থার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/21/গাজীপুরে-চেয়ারম্যান-প্র/
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “চুয়াডাঙ্গা একটি কৃষিপ্রধান জেলা। কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সারের সঠিক সরবরাহ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে সার বা বীজ বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সঠিকভাবে সার পৌঁছে দিতে প্রত্যেক কৃষককে সার কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নভিত্তিক কৃষকদের তথ্যসমৃদ্ধ ডাটাবেজ তৈরি করে জমির পরিমাণ অনুযায়ী সারের চাহিদা নির্ধারণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি মাসে জেলায় ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৬৪৫ মেট্রিক টন, বর্তমানে মজুদ রয়েছে ৩ হাজার ৯৮৫ মেট্রিক টন। টিএসপি সারের বরাদ্দ ছিল ৮৬৩ মেট্রিক টন, মজুদ রয়েছে ২১১ মেট্রিক টন। এমওপি সারের বরাদ্দ ছিল ৮১৫ মেট্রিক টন, বর্তমানে মজুদ রয়েছে ১ হাজার ৪৪২ মেট্রিক টন এবং ডিএপি সারের বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন, বর্তমানে মজুদ রয়েছে ৩৬১ মেট্রিক টন।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে জেলায় কোনো সারের সংকট নেই। তবে কিছু ডিলার পয়েন্টে কৃষকদের সার না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়ায় প্রশাসন নতুনভাবে “সার কার্ড” চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, ফুয়েল কার্ডের আদলে খুব শিগগিরই কৃষকদের জন্য এই সার কার্ড চালু করা হবে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/21/কোমলমতি-শিশুদের-স্বপ্নমঞ/
সভায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, যেসব ইউনিয়নে অতিরিক্ত সার অবশিষ্ট থাকে, তা পাশের ইউনিয়নে সরবরাহ করা গেলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। তবে এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে সার পরিবহনের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে নানা জটিলতা তৈরি হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, “অনেক সময় যশোর ডিপো থেকে সার আনতে দেরি হওয়ায় রাতে আনলোড করতে হয়। এতে স্থানীয়ভাবে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নির্দেশনা দিয়ে বলেন, সম্ভব হলে দিনের বেলায় সার আনলোড করতে হবে। একইসঙ্গে জেলার সব সার ডিলার পয়েন্টকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। তার ভাষায়, “অনেক কৃষক অভিযোগ করেন যে ডিলার পয়েন্টে গিয়েও তারা কাঙ্ক্ষিত সার পান না। তাই স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হবে।”সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নয়ন কুমার রাজবংশী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায়, সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী, আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ, জেলা সার ডিলার কমিটির সভাপতি আকবর আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।




















