আজমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী সালেহ আহমদের দাফন সম্পন্ন
- আপডেট সময় : ১২:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত প্রবাসী আহম্মদ আলী সালেহ আহমদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।জানাজায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন প্রমুখ অংশ নিয়েছেন।
জানাজা পূর্ব বক্তব্যে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত প্রবাসীদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় কাজ করছে সরকার। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। মনিটরিং টিমের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছেন। মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মিশন প্রবাসীদের সুরক্ষায় একযোগে কাজ করছে। যুদ্ধে বাংলাদেশি চারজন প্রবাসী নিহত হলেও একজনের লাশ দেশে এসেছে। অবশিষ্টদের লাশও সে দেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে সরকারি খরচে দেশে আনা হবে। সরকার নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করছে এবং নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, যারা আহত হয়েছে দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে যারা কর্মহীন এবং গৃহবন্দী হয়ে আছে তাদেরকেও খুঁজে বের করে দূতাবাসের মাধ্যমে খাবার ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। এসময় মন্ত্রী নিহতের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। এর আগে মন্ত্রী প্রবাসী আহম্মদ আলীর লাশ নিয়ে বড়লেখায় পৌঁছালে নিহতের বাড়িতে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়৷ এই সময় শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানান তিনি। সোমবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে।
বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সহযোগিতায় মরদেহটি দেশে আনা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরে তার মরদেহ বিমানযোগে সিলেটে নেওয়া হয়। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে মরদেহ রিসিভ করে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে মারা যান সালেহ আহমদ। তিনি বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা গ্রামের মৃত সবর আলীর ছেলে। স্বজনরা জানিয়েছেন, সালেহ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি পানির গাড়ি চালাতেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় তিনি নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে পানির গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এসময় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আজমান শহরে আঘাত হানে। এতে সালেহসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা সালেহকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারে তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।




















