দামুড়হুদায় সরকারি ইমামকে ঘিরে বিতর্ক থামছেই না, রাজনৈতিক মন্তব্যে নতুন করে সমালোচনার ঝড়
- আপডেট সময় : ০২:০৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১৭ বার পড়া হয়েছে
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত এক ইমামকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। ব্যক্তিগত আচরণ, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম এবং সর্বশেষ রাজনৈতিক মন্তব্য। সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা মামুনুর রশীদ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্য করে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংবাদের মন্তব্যঘরে নিজের ব্যক্তিগত আইডি থেকে তিনি লেখেন।
“জামাত মানেই বিনোদন,,, মানুষ আর আগের মতো বোকা নেই,,, বললেই মাঠে চলে যাবে,,,,,”এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং সৃষ্টি করে তীব্র প্রতিক্রিয়া। এটি এই ইমামকে ঘিরে প্রথম বিতর্ক নয়। এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জুমার নামাজের পর মসজিদের ওজুখানার সামান্য মেরামতের অর্থ চাওয়াকে কেন্দ্র করে মসজিদের প্রবীণ খাদেম জিয়াউর রহমানের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, তাকে মারধর করে আহত করা হয়। এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/05/কালীগঞ্জে-গ্যাস-সিলিন্ডা/
পরে অভিযুক্ত ইমাম নিজেও স্বীকার করেন, রাগের বশে তিনি খাদেমের ওপর হাত তুলেছিলেন। স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, ইমাম নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে উপস্থিত থাকেন না, বিশেষ করে ফজরের নামাজে অনুপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ বিরাজ করছে এলাকায়। এতে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রশ্নও উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সরকারি বেতনভুক্ত ইমামের এ ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্য সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫ নম্বর ধারার পরিপন্থী। বিধি অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/05/রামেক-হাসপাতালের-শিশু-ওয/
দামুড়হুদা থানা জামায়াতের আমীর নায়েব আলী বলেন, খাদেমকে মারধরের ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসা হলেও রাজনৈতিক মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে, চুয়াডাঙ্গার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার জানান, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওবায়দুর রহমান সাহেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও পূর্বে খাদেমকে মারধরের ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। অভিযুক্ত ইমাম মাওলানা মামুনুর রশীদ এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান। তিনি দাবি করেন, “আমার আইডি অনেকেই চালায়, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। ”পরে ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন তিনি।




















