ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

অবহেলায় মৃত্যুফাঁদ: আলমডাঙ্গার ঐতিহাসিক ‘জোড়া কোঠা’ এখন আতঙ্কের নাম

বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা):
  • আপডেট সময় : ০৫:২১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ৭৩ বার পড়া হয়েছে

অবহেলায় মৃত্যুফাঁদ: আলমডাঙ্গার ঐতিহাসিক ‘জোড়া কোঠা’ এখন আতঙ্কের নাম

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আলমডাঙ্গা শহরের চারতলার মোড় থেকে এরশাদপুর অভিমুখী ব্যস্ত সড়কের রথতলায় দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব আতঙ্ক। ঐতিহাসিক ‘জোড়া কোঠা’। একসময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ওঠা এই ভবনটি এখন পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। জরাজীর্ণ দেয়াল, ভাঙা কাঠামো আর হেলে পড়া অবয়ব যেন প্রতিনিয়ত পথচারীদের দিকে তাকিয়ে হুমকি ছুঁড়ে দিচ্ছে। দিনভর অসংখ্য যানবাহন ও পথচারীর পদচারণায় মুখর এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশেই অবস্থিত ভবনটি। কিন্তু তার ভগ্নদশা যেন কারো নজরেই পড়ছে না।

স্থানীয়দের ভাষায়, “এটা আর ভবন না, যেন যমদূত দাঁড়িয়ে আছে—কখন ধসে পড়ে কে জানে!”প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন। একটু অসতর্কতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মুহূর্তেই ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ভবনটির প্রতিটি ফাটল, প্রতিটি খসে পড়া ইট যেন আগাম বিপদের বার্তা দিচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় ইতোমধ্যে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/05/যাকাত-আদায়ে-বৈষম্য-দূর-ক/

তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি কোনো বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষায় আছেন তারা? স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি অপসারণ বা সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এতে করে দিন দিন বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আগে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংরক্ষণযোগ্য হলে যথাযথ সংস্কার করা হোক, আর তা সম্ভব না হলে জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত অপসারণ করা হোক। মানবজীবনের মূল্য কোনো ভবনের চেয়ে বেশি—এই বোধ থেকেই এখনই প্রয়োজন জরুরি পদক্ষেপ। নইলে ‘জোড়া কোঠা’ নামের এই নীরব আতঙ্ক একদিন সত্যিই কেড়ে নিতে পারে অসংখ্য নিরীহ প্রাণ, রেখে যাবে শুধু আক্ষেপ আর অবহেলার দায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

অবহেলায় মৃত্যুফাঁদ: আলমডাঙ্গার ঐতিহাসিক ‘জোড়া কোঠা’ এখন আতঙ্কের নাম

আপডেট সময় : ০৫:২১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

আলমডাঙ্গা শহরের চারতলার মোড় থেকে এরশাদপুর অভিমুখী ব্যস্ত সড়কের রথতলায় দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব আতঙ্ক। ঐতিহাসিক ‘জোড়া কোঠা’। একসময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ওঠা এই ভবনটি এখন পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। জরাজীর্ণ দেয়াল, ভাঙা কাঠামো আর হেলে পড়া অবয়ব যেন প্রতিনিয়ত পথচারীদের দিকে তাকিয়ে হুমকি ছুঁড়ে দিচ্ছে। দিনভর অসংখ্য যানবাহন ও পথচারীর পদচারণায় মুখর এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশেই অবস্থিত ভবনটি। কিন্তু তার ভগ্নদশা যেন কারো নজরেই পড়ছে না।

স্থানীয়দের ভাষায়, “এটা আর ভবন না, যেন যমদূত দাঁড়িয়ে আছে—কখন ধসে পড়ে কে জানে!”প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন। একটু অসতর্কতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মুহূর্তেই ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ভবনটির প্রতিটি ফাটল, প্রতিটি খসে পড়া ইট যেন আগাম বিপদের বার্তা দিচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় ইতোমধ্যে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/05/যাকাত-আদায়ে-বৈষম্য-দূর-ক/

তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি কোনো বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষায় আছেন তারা? স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি অপসারণ বা সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এতে করে দিন দিন বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আগে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংরক্ষণযোগ্য হলে যথাযথ সংস্কার করা হোক, আর তা সম্ভব না হলে জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত অপসারণ করা হোক। মানবজীবনের মূল্য কোনো ভবনের চেয়ে বেশি—এই বোধ থেকেই এখনই প্রয়োজন জরুরি পদক্ষেপ। নইলে ‘জোড়া কোঠা’ নামের এই নীরব আতঙ্ক একদিন সত্যিই কেড়ে নিতে পারে অসংখ্য নিরীহ প্রাণ, রেখে যাবে শুধু আক্ষেপ আর অবহেলার দায়।