উৎসবের আমেজে চুয়াডাঙ্গা: বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে প্রস্তুত জেলা প্রশাসন
- আপডেট সময় : ০২:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা নববর্ষকে ঘিরে উৎসবের রঙে রাঙাতে প্রস্তুত চুয়াডাঙ্গা। গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালিয়ানার অনন্য মেলবন্ধনে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। লক্ষ্য একটাই—জেলার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আনন্দমুখর পরিবেশে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া।“জেলার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে চাই”—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। তাঁর এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখেই নেওয়া হয়েছে সুপরিকল্পিত নানা উদ্যোগ।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় উঠে আসে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার এবং সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী। সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পহেলা বৈশাখের সকালে চুয়াডাঙ্গা শহরের চাঁদমারী মাঠ থেকে বের হবে এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/07/চৈত্রের-দাবদাহ-নয়-সুদে/
শহরের প্রধান সড়কগুলো—কোর্টমোড়, হাসান চত্বর ও কবরী রোড প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি গিয়ে শেষ হবে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ মাঠে। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে অংশ নেবেন স্থানীয় শিল্পীরা। নাচ, গান, কবিতা আর লোকজ পরিবেশনায় মুখর হয়ে উঠবে পুরো এলাকা। এছাড়া, চুয়াডাঙ্গা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। মেলায় থাকবে গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়া, দেশীয় পণ্য, হস্তশিল্প এবং নানা রকম লোকজ আয়োজন। যা শুধু বিনোদনই নয়, স্থানীয় সংস্কৃতি ও অর্থনীতিকেও করবে প্রাণবন্ত। উৎসবের আনন্দকে সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগও। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শিশু পরিবার ও জেলা কারাগারে পরিবেশন করা হবে ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবার, যা সামাজিক অন্তর্ভুক্তির এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকেও দেওয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/07/আসামের-মৈরাবাড়িতে-নৌকা/
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায় এই প্রাণের উৎসব। সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহকারী কমিশনার আশফাকুর রহমান, সরকারি কমিশনার মির্জা শহিদুল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।




















