চুয়াডাঙ্গায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, দেশসেরা তালিকায় সাফা ইসলাম
- আপডেট সময় : ০১:০৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে
একটি শিশু যখন সনদ হাতে মঞ্চে দাঁড়ায়, তখন শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জনই উদযাপিত হয় না—উদযাপিত হয় একটি পরিবারের স্বপ্ন, একজন শিক্ষকের পরিশ্রম এবং একটি সমাজের ভবিষ্যৎ। ঠিক এমনই এক আনন্দঘন ও গর্বের মুহূর্তের সাক্ষী হলো চুয়াডাঙ্গা।মেধা, নৈতিকতা ও আদর্শিক শিক্ষার সমন্বয়ে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে শনিবার (৯ মে) সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা অডিটোরিয়াম হলে অনুষ্ঠিত হয় আইইএস জাতীয় মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর বৃত্তি ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া এই আয়োজনে অংশ নেয় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/10/পলাশের-ঘোড়াশালে-রেলওয়ে/
ইসলামিক সোসাইটি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. আজিজুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা উপজেলার ৩৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৬৭ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। এবারের মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় মোট ৮৬৭ জন শিক্ষার্থী।
তবে পুরো আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এক ছোট্ট মুখ—চুয়াডাঙ্গা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফা ইসলাম। জাতীয় পর্যায়ে ৫ম স্থান অর্জন করে সে শুধু নিজের বিদ্যালয় নয়, পুরো চুয়াডাঙ্গাকেই গর্বিত করেছে। মঞ্চে তার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে অডিটোরিয়াম। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ ও গর্বের ছাপ।অনুষ্ঠানে বক্তারা শুধু ভালো ফলাফলের প্রশংসাই করেননি, গুরুত্ব দিয়েছেন নৈতিক শিক্ষার ওপরও। প্রধান অতিথি রুহুল আমিন বলেন,“শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় কর্মকর্তা হলেই চলবে না। সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন তারা সততা, মানবিকতা ও ন্যায়বোধ নিয়ে সমাজের নেতৃত্ব দিতে পারে।”
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/10/দিনাজপুরে-বাহাদুর-বাজার/
তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতির সঙ্গে সাধারণ মানুষ জড়িত নয়; বরং উচ্চপদে থাকা কিছু মানুষই সমাজকে কলুষিত করছে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের আদর্শিক শিক্ষায় গড়ে তোলা জরুরি।”বিশেষ অতিথি মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন,
“মেধাবৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মাঝে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে। এটি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং বড় স্বপ্ন দেখতে শেখায়।”
অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেন অতিথিরা। পুরো অডিটোরিয়ামজুড়ে তখন ছিল উৎসবের আবহ। কেউ ছবি তুলছে, কেউ সন্তানকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে কাঁদছেন, আবার কেউ ভবিষ্যতের আরও বড় স্বপ্ন বুনছেন।চুয়াডাঙ্গার এই আয়োজন যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল—সঠিক দিকনির্দেশনা ও মূল্যবোধের শিক্ষা পেলে মফস্বলের ছোট্ট শিশুরাও একদিন জাতীয় পর্যায়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারে।




















