জীবননগরে আইসিটি কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমানের রহস্যজনক মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০২:৩৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
একটি স্বপ্নময় সংসার, অনাগত সন্তানের অপেক্ষা, কর্মজীবনের নতুন সম্ভাবনা—সবকিছু যেন এক মুহূর্তেই থমকে গেল। জীবননগর উপজেলা পরিষদের আইসিটি কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান আর নেই। শুক্রবার সকালে জীবননগর পৌরসভার বসতিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
মাত্র এক বছর আগে নতুন উদ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন মাহমুদুর রহমান। ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর গ্রামের এই তরুণ কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জীবননগর উপজেলা পরিষদে সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি অফিসার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানে তিনি ছিলেন আন্তরিক ও কর্মনিষ্ঠ। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন ভদ্র, মিশুক ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/20/নীলফামারীর-অধিকাংশ-নদী-ন/
কিন্তু জীবনের অজানা এক অধ্যায় যেন নীরবে তাকে গ্রাস করে নেয়। শুক্রবার সকালে দীর্ঘ সময় ধরে কক্ষের দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজনরা স্থানীয়দের সহায়তায় খোঁজ নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের কক্ষ থেকে দেখা যায়, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে মাহমুদুর রহমানের নিথর দেহ। মুহূর্তেই নেমে আসে শোক আর স্তব্ধতা। নিহতের স্ত্রী ইতি খাতুন জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছু পারিবারিক মনোমালিন্য ছিল, যা অনেক পরিবারের মতোই সাধারণ বিষয়। তিনি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। ভবিষ্যৎ সন্তানকে ঘিরে ছিল তাদের অনেক স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন শুধুই স্মৃতি। তিনি জানান, ঘটনার রাতে তিনি দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, তার স্বামী একটি টুল নিয়ে অন্য কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে রেখেছেন। পরে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি সবার নজরে আসে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/20/আলমডাঙ্গায়-মাদকবিরোধী-19/
মাহমুদুর রহমানের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, হারিয়ে দিয়েছে একজন স্বপ্নবাজ তরুণকে। যে মানুষটি হয়তো অনাগত সন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন, পরিবারকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনা করেছিলেন, সেই মানুষটিই আজ নিথর।খবর পেয়ে জীবননগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।ঘটনার খবর পেয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।মাহমুদুর রহমানের এই অকাল বিদায় সহকর্মীদেরও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। অফিসে তার হাসিমুখ, আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের স্মৃতি এখন শুধু স্মরণেই থাকবে। অনাগত সন্তানের জন্য রেখে যাওয়া শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/19/তাসলিমার-অভিযোগ-সম্পূর্ণ/
জীবনের শেষ রাতটি কীভাবে কেটেছিল, কী ছিল তার মনের গভীরে জমে থাকা কষ্ট—সেসব প্রশ্নের উত্তর হয়তো আর জানা হবে না। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, একজন তরুণ সরকারি কর্মকর্তা, একজন স্বামী এবং একজন অনাগত সন্তানের পিতা হিসেবে তার অপূর্ণ গল্পটি জীবননগরের মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।মাহমুদুর রহমানের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারি আর সহকর্মীদের নিঃশব্দ অশ্রু যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে—জীবনের গল্প কখন কোথায় থেমে যায়, তা কেউ জানে না।




















