আলমডাঙ্গায় একই সময়ে তিন পান বরজে আগুন: আতঙ্ক, ক্ষতি ও নাশকতার শঙ্কা
- আপডেট সময় : ১১:০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮১ বার পড়া হয়েছে
রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে একযোগে পুড়ে গেছে তিনটি পান বরজ। ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়ন এলাকার বকশিপুর গ্রামে। এতে দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। একই সময়ে তিনটি বরজে আগুন লাগায়।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বকশিপুর স্কুলপাড়া মাঠ এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামের মাতাফের ছেলে আব্দুল হান্নানের দুটি এবং মৃত আরশিদের ছেলে রুপচানের একটি পান বরজে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। বড় আকারের বরজ হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। খবর ছড়িয়ে পড়লে মসজিদের মাইকিংয়ের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়। পরে স্থানীয়রা মাঠের ডিপ টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর আলমডাঙ্গা স্টেশন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, তার প্রায় সাড়ে ১৭ কাঠা জমির দুটি বড় বরজ ছিল এবং একই সময়ে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। তিনি আরও বলেন, তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত—এ কারণেও কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে পারে বলে তার ধারণা। এর আগেও তার বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রুপচান, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়রা জানান, তিনি বলেন—আগুন লাগার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং কিভাবে আগুন লাগলো বা কারা লাগালো তা তিনি দেখেননি। স্থানীয় ব্যক্তি খবির আলী বলেন, এটি রাজনৈতিক বিরোধের ঘটনা বলে তার মনে হয় না। তার মতে, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, তিনটি বরজ প্রায় ৩০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত। প্রথমে একটি বরজে আগুন লেগে পরে অন্য বরজে ছড়িয়ে পড়েছে—নাকি আলাদা আলাদা করে আগুন দেওয়া হয়েছে—তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৬–৭ কাঠা বরজ পুড়ে গেছে এবং প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি—প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। একই মাঠে আরও অনেক কৃষকের পান বরজ থাকায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় কৃষকরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।






















