ঢাকা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

টর্চার সেলের অভিযোগে কাঁপছে আশাশুনি, ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহারের অভিযোগ গোয়েন্দা সদস্য হুমায়ূনের বিরুদ্ধে

মোহাম্মদ মুজাহিদঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১৯ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহারের অভিযোগ গোয়েন্দা সদস্য হুমায়ূনের বিরুদ্ধে

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা জুড়ে নিরাপত্তার নামে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির যে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে, তা এখন শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গোয়েন্দা পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ব্যক্তি ভয়ভীতি, নির্যাতন ও আর্থিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা কর্পোরাল হুমায়ুনের বিরুদ্ধে নতুন করে বিভিন্ন ভুক্তভোগী মুখ খুলতে শুরু করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মৎস্যচাষিদের দাবি, নিয়মিত মাসোহারা না দিলে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি, মামলা দেওয়ার হুমকি কিংবা সরাসরি হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দুই-ই বাড়ছে।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি মহাজনপুর বিল এলাকায়, যেখানে রাতের অন্ধকারে দুই যুবককে তুলে নিয়ে মারধর ও টাকা আদায় করার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি, এটি ছিল সুপরিকল্পিত ভয় দেখানোর কৌশল ও চাঁদাবাজি । একইভাবে আনুলিয়া গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে তল্লাশির নামে নির্যাতন ও পরে মামলায় জড়ানোর অভিযোগও স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য সরাসরি অভিযান চালানো বা কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়া লঙ্ঘিত হলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়, ফৌজদারি তদন্তেরও আওতায় আসতে পারে। অভিযুক্ত হুমায়ুন অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তদন্ত হলেই সত্য প্রকাশ পাবে। তবে সচেতন মহল বলছে, অভিযোগ সত্য না মিথ্যা তা নির্ধারণের একমাত্র পথ হচ্ছে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত।

অভিযুক্তের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আনা।
কারণ একটাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অভিযোগ যত বড়ই হোক, তার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতেই হবে। আশাশুনির ঘটনাটি এখন একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে: নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যার, তার বিরুদ্ধে যদি নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ ওঠে তবে তা উপেক্ষা করার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই। জনগণের প্রত্যাশা পরিষ্কার, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নিশ্চিত করতে হবে এখনই।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

টর্চার সেলের অভিযোগে কাঁপছে আশাশুনি, ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহারের অভিযোগ গোয়েন্দা সদস্য হুমায়ূনের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৭:১৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা জুড়ে নিরাপত্তার নামে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির যে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে, তা এখন শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গোয়েন্দা পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ব্যক্তি ভয়ভীতি, নির্যাতন ও আর্থিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা কর্পোরাল হুমায়ুনের বিরুদ্ধে নতুন করে বিভিন্ন ভুক্তভোগী মুখ খুলতে শুরু করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মৎস্যচাষিদের দাবি, নিয়মিত মাসোহারা না দিলে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি, মামলা দেওয়ার হুমকি কিংবা সরাসরি হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দুই-ই বাড়ছে।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি মহাজনপুর বিল এলাকায়, যেখানে রাতের অন্ধকারে দুই যুবককে তুলে নিয়ে মারধর ও টাকা আদায় করার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি, এটি ছিল সুপরিকল্পিত ভয় দেখানোর কৌশল ও চাঁদাবাজি । একইভাবে আনুলিয়া গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে তল্লাশির নামে নির্যাতন ও পরে মামলায় জড়ানোর অভিযোগও স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য সরাসরি অভিযান চালানো বা কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়া লঙ্ঘিত হলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়, ফৌজদারি তদন্তেরও আওতায় আসতে পারে। অভিযুক্ত হুমায়ুন অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তদন্ত হলেই সত্য প্রকাশ পাবে। তবে সচেতন মহল বলছে, অভিযোগ সত্য না মিথ্যা তা নির্ধারণের একমাত্র পথ হচ্ছে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত।

অভিযুক্তের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আনা।
কারণ একটাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অভিযোগ যত বড়ই হোক, তার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতেই হবে। আশাশুনির ঘটনাটি এখন একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে: নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যার, তার বিরুদ্ধে যদি নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ ওঠে তবে তা উপেক্ষা করার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই। জনগণের প্রত্যাশা পরিষ্কার, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নিশ্চিত করতে হবে এখনই।