ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

শ্যামনগরে নায়েবের বিরুদ্ধে নদীর চর দখল ও কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

সরকারি জমির ‘রক্ষক’ এখন ‘ভক্ষক’

মোহাম্মদ মুজাহিদ:
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২২ বার পড়া হয়েছে

সরকারি জমির ‘রক্ষক’ এখন ‘ভক্ষক’

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারি জমি সংরক্ষণের দায়িত্ব যার কাঁধে, সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই এখন উঠেছে দখল ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে খোলপেটুয়া নদীর চর দখল করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি একটি শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে নদীর চর ও সরকারি পেরিফেরিভুক্ত জমি প্রভাবশালীদের কাছে অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াবেঁকী বাজার সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর বিশাল চর এলাকা স্থানীয় এক কাঠ ব্যবসায়ী ও সমিল মালিক মারুফ বিল্লাহকে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে দখলে দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যাওয়ায় সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে কীভাবে তিনি নদীর চর দখলদারিত্বের সুযোগ করে দেন? স্থানীয়দের দাবি, ‘শাহাদাৎ’ নামে এক দালালের মাধ্যমে প্রতিটি প্লট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া কাগজপত্র ও মৌখিক আশ্বাসে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চলছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বেতনের সঙ্গে তার জীবনযাত্রার বিশাল অমিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দুর্নীতির অভিযোগের মাত্রা বাড়তে থাকায় স্থানীয়রা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়লেও রহস্যজনক কারণে তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা অসহায়। সরকারি জমি নায়েব নিজেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। প্রশাসন চুপ থাকায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।” এ বিষয়ে অভিযুক্ত নায়েব আশরাফুজ্জামানের সাথে তিনি বলেন আপনি কি অনলাইন পত্রিকায় কাজ করেন? অপর আরেকটা প্রশ্নে বলেন আপনি কি প্রেসক্লাবের সদস্য? আপনি প্রেসক্লাবে আসেন। বলে তড়িঘড়ি করে আলাপ কলটি কেটে দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শ্যামনগরে নায়েবের বিরুদ্ধে নদীর চর দখল ও কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

সরকারি জমির ‘রক্ষক’ এখন ‘ভক্ষক’

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারি জমি সংরক্ষণের দায়িত্ব যার কাঁধে, সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই এখন উঠেছে দখল ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে খোলপেটুয়া নদীর চর দখল করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি একটি শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে নদীর চর ও সরকারি পেরিফেরিভুক্ত জমি প্রভাবশালীদের কাছে অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াবেঁকী বাজার সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর বিশাল চর এলাকা স্থানীয় এক কাঠ ব্যবসায়ী ও সমিল মালিক মারুফ বিল্লাহকে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে দখলে দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যাওয়ায় সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে কীভাবে তিনি নদীর চর দখলদারিত্বের সুযোগ করে দেন? স্থানীয়দের দাবি, ‘শাহাদাৎ’ নামে এক দালালের মাধ্যমে প্রতিটি প্লট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া কাগজপত্র ও মৌখিক আশ্বাসে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চলছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বেতনের সঙ্গে তার জীবনযাত্রার বিশাল অমিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দুর্নীতির অভিযোগের মাত্রা বাড়তে থাকায় স্থানীয়রা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়লেও রহস্যজনক কারণে তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা অসহায়। সরকারি জমি নায়েব নিজেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। প্রশাসন চুপ থাকায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।” এ বিষয়ে অভিযুক্ত নায়েব আশরাফুজ্জামানের সাথে তিনি বলেন আপনি কি অনলাইন পত্রিকায় কাজ করেন? অপর আরেকটা প্রশ্নে বলেন আপনি কি প্রেসক্লাবের সদস্য? আপনি প্রেসক্লাবে আসেন। বলে তড়িঘড়ি করে আলাপ কলটি কেটে দেন।