ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে

সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার পর থেকে সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন। কিন্তু কাজ করেছেন ঠিক উল্টো। অর্থ পাচার নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু স্বীকৃত অর্থ পাচারকারীদের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করেছেন। একটি শিল্পগোষ্ঠীর সংবাদপত্রে নিয়মিত লিখতেন আহসান মনসুর। এই শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়।দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তের স্বার্থে, ওই শিল্পগোষ্ঠীর কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে জব্দ করার প্রয়োজন দেখা দেয়। দুদক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার জন্য বিএফআইইউ-কে অনুরোধ করে।

এই সময়ে সামনে আসেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি বিএফআইইউ-কে সরাসরি নির্দেশ দেন, যেন তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা না হয়। প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ পাওয়া যায় ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের অনুসন্ধানে মাঠে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে গত ৮ এপ্রিল দুদকের উপ-পরিচালক আহসানুল কবির পলাশের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের বিশেষ অনুসন্ধানকারী টিম গঠন করা হয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ওই টিমের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। কিন্তু বাঁধ সাধেন আহসান এইচ মনসুর। তার নির্দেশে ওই গ্রুপের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়নি।
শাকশিল্প খাতের একটি শীর্ষ গ্রুপের বিরুদ্ধে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। যখনই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন হস্তক্ষেপ করেন আহসান মনসুর। এরকম অন্তত ডজনখানেক অভিযোগ আছে যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এদের সঙ্গে গোপন এবং অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ পাচারের ইস্যু ধামাচাপা দেন। প্রতিটি ঘটনায় তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অনেকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার পর তারা গোপনে আহসান মনসুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে তাদের ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া হয়। এনিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা চরম আকার ধারণ করে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৮ মাসে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সাবেক গভর্নর অন্তত ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, টাকা নিয়ে যে সবার কাজ করে দিয়েছেন, এমনটিও নয়। অনেকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাদের কাজ করে দেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়, গভর্নরও তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু শেষদিন পর্যন্ত তিনি কাজটা করে দেননি। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ বেশির ভাগই বিদেশে পাচার করেছেন আহসান মনসুর। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দুবাইয়ে তার মেয়ে মেহরিন সারা মনসুরকে ৪৫ কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছেন- এমন একটি অভিযোগ সামনে এসেছে।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি কোনো দিন বিদেশে কোনো টাকা পাঠাননি। দুবাইয়ের ওই সম্পত্তি তার কন্যা মেহরিন সারার। ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছিল ২০২৩ সালে। ওই ফ্ল্যাটের দলিলে কেবল অভিভাবক হিসেবে তার নাম রয়েছে । তবে দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ওই ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছে। দলিল অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটির অবস্থান দুবাইয়ের আল জাদ্দা এলাকায়। ওই ফ্ল্যাটের দলিলে মালিক হিসেবে আহসান এইচ মনসুর ও মেহরিন সারা মনসুরের নাম রয়েছে। সেখানে আহসান এইচ মনসুরকে অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, কেউ মালিক না হয়ে কেবল অভিভাবক হলে তার নাম অভিভাবক হিসেবে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। আর শুধু নাম উল্লেখ থাকলে তা আইনগতভাবে সরাসরি মালিকানা হিসেবে সাব্যস্ত হয়। সুতরাং আহসান এইচ মনসুরের নাম অভিভাবক হিসেবে এসেছে তা দলিলগতভাবে সঠিক নয়।

জানা যায়, ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রেশনের দিন আহসান এইচ মনসুর শারীরিকভাবে দুবাইয়ে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি জিবুতি যান। ২২ ডিসেম্বর তিনি ইথিওপিয়া যান। একই দিন তিনি আদ্দিস আবাবা থেকে দুবাই যান। ২৪ ডিসেম্বর রাতে তিনি দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এই সময় সূচি অনুযায়ী তিনি ২৪ ডিসেম্বর সারা দিন দুবাইতে অবস্থান করেন। আর ওই দিনই ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, দলিলের সময় ক্রেতার সরাসরি উপস্থিতি ও স্বাক্ষর প্রয়োজন। বিকল্প হিসেবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা ডিজিটাল স্মার্ট সার্ভিসের সুযোগ রয়েছে। তবে ওই দলিলে প্রতিনিধির নাম নেই, বরং রয়েছে স্বাক্ষর। এ বিষয়টি আহসান মনসুরের শারীরিক উপস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অর্থ পাচার বন্ধের কথা বলা সাবেক গভর্নর নিজেই একজন অর্থ পাচারকারী। এরা সমাজের হোয়াইট কলারক্রিমিনাল। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহসান মনসুরের অর্থ পাচারের বিষয়টি তদন্ত করা দরকার। এ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিদেশ যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৪৫:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার পর থেকে সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন। কিন্তু কাজ করেছেন ঠিক উল্টো। অর্থ পাচার নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু স্বীকৃত অর্থ পাচারকারীদের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করেছেন। একটি শিল্পগোষ্ঠীর সংবাদপত্রে নিয়মিত লিখতেন আহসান মনসুর। এই শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়।দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তের স্বার্থে, ওই শিল্পগোষ্ঠীর কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে জব্দ করার প্রয়োজন দেখা দেয়। দুদক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার জন্য বিএফআইইউ-কে অনুরোধ করে।

এই সময়ে সামনে আসেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি বিএফআইইউ-কে সরাসরি নির্দেশ দেন, যেন তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা না হয়। প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ পাওয়া যায় ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের অনুসন্ধানে মাঠে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে গত ৮ এপ্রিল দুদকের উপ-পরিচালক আহসানুল কবির পলাশের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের বিশেষ অনুসন্ধানকারী টিম গঠন করা হয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ওই টিমের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। কিন্তু বাঁধ সাধেন আহসান এইচ মনসুর। তার নির্দেশে ওই গ্রুপের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়নি।
শাকশিল্প খাতের একটি শীর্ষ গ্রুপের বিরুদ্ধে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। যখনই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন হস্তক্ষেপ করেন আহসান মনসুর। এরকম অন্তত ডজনখানেক অভিযোগ আছে যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এদের সঙ্গে গোপন এবং অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ পাচারের ইস্যু ধামাচাপা দেন। প্রতিটি ঘটনায় তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অনেকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার পর তারা গোপনে আহসান মনসুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে তাদের ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া হয়। এনিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা চরম আকার ধারণ করে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৮ মাসে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সাবেক গভর্নর অন্তত ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, টাকা নিয়ে যে সবার কাজ করে দিয়েছেন, এমনটিও নয়। অনেকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাদের কাজ করে দেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়, গভর্নরও তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু শেষদিন পর্যন্ত তিনি কাজটা করে দেননি। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ বেশির ভাগই বিদেশে পাচার করেছেন আহসান মনসুর। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দুবাইয়ে তার মেয়ে মেহরিন সারা মনসুরকে ৪৫ কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছেন- এমন একটি অভিযোগ সামনে এসেছে।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি কোনো দিন বিদেশে কোনো টাকা পাঠাননি। দুবাইয়ের ওই সম্পত্তি তার কন্যা মেহরিন সারার। ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছিল ২০২৩ সালে। ওই ফ্ল্যাটের দলিলে কেবল অভিভাবক হিসেবে তার নাম রয়েছে । তবে দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ওই ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছে। দলিল অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটির অবস্থান দুবাইয়ের আল জাদ্দা এলাকায়। ওই ফ্ল্যাটের দলিলে মালিক হিসেবে আহসান এইচ মনসুর ও মেহরিন সারা মনসুরের নাম রয়েছে। সেখানে আহসান এইচ মনসুরকে অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, কেউ মালিক না হয়ে কেবল অভিভাবক হলে তার নাম অভিভাবক হিসেবে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। আর শুধু নাম উল্লেখ থাকলে তা আইনগতভাবে সরাসরি মালিকানা হিসেবে সাব্যস্ত হয়। সুতরাং আহসান এইচ মনসুরের নাম অভিভাবক হিসেবে এসেছে তা দলিলগতভাবে সঠিক নয়।

জানা যায়, ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রেশনের দিন আহসান এইচ মনসুর শারীরিকভাবে দুবাইয়ে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি জিবুতি যান। ২২ ডিসেম্বর তিনি ইথিওপিয়া যান। একই দিন তিনি আদ্দিস আবাবা থেকে দুবাই যান। ২৪ ডিসেম্বর রাতে তিনি দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এই সময় সূচি অনুযায়ী তিনি ২৪ ডিসেম্বর সারা দিন দুবাইতে অবস্থান করেন। আর ওই দিনই ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, দলিলের সময় ক্রেতার সরাসরি উপস্থিতি ও স্বাক্ষর প্রয়োজন। বিকল্প হিসেবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা ডিজিটাল স্মার্ট সার্ভিসের সুযোগ রয়েছে। তবে ওই দলিলে প্রতিনিধির নাম নেই, বরং রয়েছে স্বাক্ষর। এ বিষয়টি আহসান মনসুরের শারীরিক উপস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অর্থ পাচার বন্ধের কথা বলা সাবেক গভর্নর নিজেই একজন অর্থ পাচারকারী। এরা সমাজের হোয়াইট কলারক্রিমিনাল। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহসান মনসুরের অর্থ পাচারের বিষয়টি তদন্ত করা দরকার। এ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিদেশ যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।