সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:৪৫:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অনেকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার পর তারা গোপনে আহসান মনসুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে তাদের ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া হয়। এনিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা চরম আকার ধারণ করে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৮ মাসে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সাবেক গভর্নর অন্তত ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, টাকা নিয়ে যে সবার কাজ করে দিয়েছেন, এমনটিও নয়। অনেকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাদের কাজ করে দেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়, গভর্নরও তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু শেষদিন পর্যন্ত তিনি কাজটা করে দেননি। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ বেশির ভাগই বিদেশে পাচার করেছেন আহসান মনসুর। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দুবাইয়ে তার মেয়ে মেহরিন সারা মনসুরকে ৪৫ কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছেন- এমন একটি অভিযোগ সামনে এসেছে।
কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি কোনো দিন বিদেশে কোনো টাকা পাঠাননি। দুবাইয়ের ওই সম্পত্তি তার কন্যা মেহরিন সারার। ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছিল ২০২৩ সালে। ওই ফ্ল্যাটের দলিলে কেবল অভিভাবক হিসেবে তার নাম রয়েছে । তবে দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ওই ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছে। দলিল অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটির অবস্থান দুবাইয়ের আল জাদ্দা এলাকায়। ওই ফ্ল্যাটের দলিলে মালিক হিসেবে আহসান এইচ মনসুর ও মেহরিন সারা মনসুরের নাম রয়েছে। সেখানে আহসান এইচ মনসুরকে অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, কেউ মালিক না হয়ে কেবল অভিভাবক হলে তার নাম অভিভাবক হিসেবে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। আর শুধু নাম উল্লেখ থাকলে তা আইনগতভাবে সরাসরি মালিকানা হিসেবে সাব্যস্ত হয়। সুতরাং আহসান এইচ মনসুরের নাম অভিভাবক হিসেবে এসেছে তা দলিলগতভাবে সঠিক নয়।
জানা যায়, ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রেশনের দিন আহসান এইচ মনসুর শারীরিকভাবে দুবাইয়ে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি জিবুতি যান। ২২ ডিসেম্বর তিনি ইথিওপিয়া যান। একই দিন তিনি আদ্দিস আবাবা থেকে দুবাই যান। ২৪ ডিসেম্বর রাতে তিনি দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এই সময় সূচি অনুযায়ী তিনি ২৪ ডিসেম্বর সারা দিন দুবাইতে অবস্থান করেন। আর ওই দিনই ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, দলিলের সময় ক্রেতার সরাসরি উপস্থিতি ও স্বাক্ষর প্রয়োজন। বিকল্প হিসেবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা ডিজিটাল স্মার্ট সার্ভিসের সুযোগ রয়েছে। তবে ওই দলিলে প্রতিনিধির নাম নেই, বরং রয়েছে স্বাক্ষর। এ বিষয়টি আহসান মনসুরের শারীরিক উপস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অর্থ পাচার বন্ধের কথা বলা সাবেক গভর্নর নিজেই একজন অর্থ পাচারকারী। এরা সমাজের হোয়াইট কলারক্রিমিনাল। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহসান মনসুরের অর্থ পাচারের বিষয়টি তদন্ত করা দরকার। এ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিদেশ যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।


























