ঢাকা ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

হামলা বন্ধের শর্ত জানাল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৩:২২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ৯২ বার পড়া হয়েছে

হামলা বন্ধের শর্ত জানাল ইরান

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো থেকে আক্রমণ আসা বন্ধ হয়, তাহলে ইরানও হামলা বন্ধ করবে। আজ শনিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “গত কয়েক দিনে যেসব প্রতিবেশী দেশে ইরান হামলা করেছে— তাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই। কারণ ইরানের জনগণ কখনও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের কাছে মাথা নত করবে না এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থে কখনও আপস করবে না।”

“শত্রুরা চায় ইরানের জনগণ আত্মসমর্পণ করুক; কিন্তু তা কখনও ঘটবে না, বরং এই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শত্রুরা কবরে যাবে।” “তবে ইরানের অস্থায়ী নিরাপত্তা পরিষদ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে যদি ইরানে হামলা বন্ধ হয়, তাহলে ইরানও পাল্টা হামলা বন্ধ করবে।” ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে বলেও জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের সঙ্গে ইরানের সরাসরি যুদ্ধ বাঁধেনি।

মার্কিন গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ যুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের কোথায় কোথায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে, সেসব ঘাঁটির সেনাসংখ্যা, অস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো বিভিন্ন গোয়েন্দা চ্যানেলে তেহরানকে জানাচ্ছে মস্কো।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি নিহত হওয়ার তিন সদস্যবিশিস্ট ‘অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠিত হয়েছে ইরানে। সেই পরিষদের প্রধান হিসেবে আছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। অপর দু’জন ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই এবং ইরানের প্রভাবশালী সংস্থা গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হামলা বন্ধের শর্ত জানাল ইরান

আপডেট সময় : ০৩:২২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো থেকে আক্রমণ আসা বন্ধ হয়, তাহলে ইরানও হামলা বন্ধ করবে। আজ শনিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “গত কয়েক দিনে যেসব প্রতিবেশী দেশে ইরান হামলা করেছে— তাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই। কারণ ইরানের জনগণ কখনও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের কাছে মাথা নত করবে না এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থে কখনও আপস করবে না।”

“শত্রুরা চায় ইরানের জনগণ আত্মসমর্পণ করুক; কিন্তু তা কখনও ঘটবে না, বরং এই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শত্রুরা কবরে যাবে।” “তবে ইরানের অস্থায়ী নিরাপত্তা পরিষদ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে যদি ইরানে হামলা বন্ধ হয়, তাহলে ইরানও পাল্টা হামলা বন্ধ করবে।” ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে বলেও জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের সঙ্গে ইরানের সরাসরি যুদ্ধ বাঁধেনি।

মার্কিন গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ যুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের কোথায় কোথায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে, সেসব ঘাঁটির সেনাসংখ্যা, অস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো বিভিন্ন গোয়েন্দা চ্যানেলে তেহরানকে জানাচ্ছে মস্কো।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি নিহত হওয়ার তিন সদস্যবিশিস্ট ‘অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠিত হয়েছে ইরানে। সেই পরিষদের প্রধান হিসেবে আছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। অপর দু’জন ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই এবং ইরানের প্রভাবশালী সংস্থা গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য।