কার্পাসডাঙ্গায় ভুয়া চিকিৎসক চক্রের ক্লিনিকে অভিযান: লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার সিলগালা, জরিমানা ২ লাখ টাকা
- আপডেট সময় : ১১:৫৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৮৮ বার পড়া হয়েছে
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। একইসাথে প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কার্পাসডাঙ্গা বাজারে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিন আলম।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক পরিচয়ে মামুন অর রশিদ শাওন ও স্নিগ্ধা খাতুন নামে এক দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখতেন। তারা চিকিৎসক না হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের নামের আগে ‘ডা.’ পদবি ব্যবহার করে প্রেসক্রিপশন দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। তবে অভিযানের সময় কৌশলে ওই দম্পতি পালিয়ে যান। অভিযানে আরও দেখা যায়, ক্লিনিকটিতে কর্মরত নার্সদের কেউই নিবন্ধিত নন। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই তারা রোগীদের শরীরে বিভিন্ন ইনজেকশন প্রয়োগ করছিলেন। এছাড়া পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরও কোনো অনুমোদন বা প্রশিক্ষণ নেই।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিন আলম জানান, অভিযানের সময় লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার কর্তৃপক্ষ কোনো বৈধ লাইসেন্স বা নিবন্ধনপত্র দেখাতে পারেনি। অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট-অপারেটিভ ব্যবস্থাপনাও ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া চিকিৎসা সরঞ্জাম সংরক্ষণ ও পরিবেশ ছিল অস্বাস্থ্যকর, যা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
ভবিষ্যতেও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের অবৈধ ক্লিনিক, ল্যাব ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান জানান, ক্লিনিকটিতে মানহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছিল। মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট দিয়ে প্যাথলজি পরীক্ষা, অপরিচ্ছন্ন অপারেশন রুম এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন না থাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ক্লিনিকে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও এবার প্রশাসনের অভিযানে তা প্রকাশ্যে আসে। এলাকাবাসী জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।























