ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার, ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি

স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ১১:৫৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ১১১ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বসবে নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশন। বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অধিবেশন ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়।
অধিবেশনের প্রথম দিনই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ দেওয়া হবে। সংসদের সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে জামায়াত এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি; বরং তারা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে চলতি সংসদের প্রথম অধিবেশনেই জুলাই সনদ ও গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে জুলাই জাতীয় সনদের বিধান অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদে ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখার দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল। অবশ্য সংসদকে কার্যকর করতে বিরোধী দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সরকারি দল।
জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য বিরোধী দলের ৭৭ জন বিজয়ী প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছেন। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় সরকারি দলের কঠোর সমালোচনা করছেন। সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন না হলে ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছেন তারা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদ অধিবেশনে ভাষণ প্রদান থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এ নিয়ে সভা-সমাবেশের পাশাপাশি সংসদে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
সর্বশেষ গত ৯ মার্চ খুলনাতে এক সমাবেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে ১২ মার্চ মিছিল নিয়ে সংসদ ভবনের সামনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অতীতের ধারাবাহিকতায় অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন।সেই ভাষণের ওপর সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা আলোচনা করবেন।
গত ৫ মার্চ মন্ত্রিপরিষদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুমোদন করা হয়েছে।এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদে ও রাজপথে লড়াই চলবে। দেশের মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।সেই জনরায়কে অগ্রাহ্য করার অর্থ হলো পুরো জুলাই আন্দোলনকেই অস্বীকার করা। সরকার যদি জনগণের অনুভূতি ধারণ করে দেশ পরিচালনা করে, তাহলে জামায়াতে ইসলামী সব প্রকার সহযোগিতা করবে।’জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি দল ও বিরোধী দল—সবাইকে একমঞ্চে এনে সংসদকে কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুরু করেছেন, সেটি হচ্ছে সব পক্ষকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া।
এ জন্য বিরোধী দল থেকে একজনকে ডেপুটি স্পিকার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে সংসদে একটি কার্যকর বিরোধী দল থাকা জরুরি বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে বিগত কয়েকটি সংসদে অনুগত বিরোধী দল, গৃহপালিত বিরোধী দল এবং একই সঙ্গে সরকারে ও বিরোধী দলে অবস্থান নেওয়া বিরোধী দল দেখা গেছে। গণতান্ত্রিক চর্চা বিকাশের ক্ষেত্রে তাদের কার্যকর ভূমিকা ছিল না। তবে এবারের নির্বাচনে সেই পরিস্থিতির অবসান হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার, ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ১১:৫৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বসবে নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশন। বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অধিবেশন ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়।
অধিবেশনের প্রথম দিনই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ দেওয়া হবে। সংসদের সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে জামায়াত এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি; বরং তারা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে চলতি সংসদের প্রথম অধিবেশনেই জুলাই সনদ ও গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে জুলাই জাতীয় সনদের বিধান অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদে ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখার দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল। অবশ্য সংসদকে কার্যকর করতে বিরোধী দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সরকারি দল।
জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য বিরোধী দলের ৭৭ জন বিজয়ী প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছেন। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় সরকারি দলের কঠোর সমালোচনা করছেন। সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন না হলে ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছেন তারা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদ অধিবেশনে ভাষণ প্রদান থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এ নিয়ে সভা-সমাবেশের পাশাপাশি সংসদে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
সর্বশেষ গত ৯ মার্চ খুলনাতে এক সমাবেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে ১২ মার্চ মিছিল নিয়ে সংসদ ভবনের সামনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অতীতের ধারাবাহিকতায় অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন।সেই ভাষণের ওপর সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা আলোচনা করবেন।
গত ৫ মার্চ মন্ত্রিপরিষদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুমোদন করা হয়েছে।এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদে ও রাজপথে লড়াই চলবে। দেশের মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।সেই জনরায়কে অগ্রাহ্য করার অর্থ হলো পুরো জুলাই আন্দোলনকেই অস্বীকার করা। সরকার যদি জনগণের অনুভূতি ধারণ করে দেশ পরিচালনা করে, তাহলে জামায়াতে ইসলামী সব প্রকার সহযোগিতা করবে।’জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি দল ও বিরোধী দল—সবাইকে একমঞ্চে এনে সংসদকে কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুরু করেছেন, সেটি হচ্ছে সব পক্ষকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া।
এ জন্য বিরোধী দল থেকে একজনকে ডেপুটি স্পিকার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে সংসদে একটি কার্যকর বিরোধী দল থাকা জরুরি বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে বিগত কয়েকটি সংসদে অনুগত বিরোধী দল, গৃহপালিত বিরোধী দল এবং একই সঙ্গে সরকারে ও বিরোধী দলে অবস্থান নেওয়া বিরোধী দল দেখা গেছে। গণতান্ত্রিক চর্চা বিকাশের ক্ষেত্রে তাদের কার্যকর ভূমিকা ছিল না। তবে এবারের নির্বাচনে সেই পরিস্থিতির অবসান হয়েছে।’