ঢাকা ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

সাজাপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার শহীদুল বহাল তবিয়তে কর্মস্থলে; গ্রেফতার নিয়ে ধুম্রজাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

সাজাপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার শহীদুল বহাল তবিয়তে কর্মস্থলে

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলাম (বর্তমানে ফকিরহাট উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত)। প্রভাব-বলয় তৈরি করে দীর্ঘদিন চাকুরি করেছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা ভূমি অফিসে। এসময় ঘুষ-দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ছিল তার নিত্যদিনের ঘটনা। এ উপজেলায় থাকাকালীন বিভিন্ন ধর্নাঢ্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের সাথে গড়ে তোলেন সখ্যতা। কৌশলে হাতিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, চাকুরীকালীন সময়ে শার্শা উপজেলার বেনাপোল (বড় আচড়া) গ্রামের বিউটি খাতুন ও হোসেন মোল্লার সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে ব্যবসায়িক পার্টনারের প্রস্তাব দেন। ব্যবসায়িক পার্টনার করার কথা বলে কৌশলে বিউটি খাতুন ও হোসেন মোল্লার কাছ থেকে ৭লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ধুরন্ধর এই শহীদুল। টাকা নেওয়ার কিছুদিন পর বদলী নিয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা ত্যাগ করেন সার্ভেয়ার শহীদুল। চলে আসেন বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ ভূমি অফিসে। বদলীর পর বিউটি খাতুন ও হোসেন মোল্লা একাধিকবার সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলামকে টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য বলেন। টাকা ফেরত চাইলে সার্ভেয়ার শহীদুল বিউটি খাতুনকে অগ্রণী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখার ৭লক্ষ ৫০হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করেন। বাদীদ্বয় ওই চেক নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে টাকা উত্তোলন করার সময় তার একাউন্টে টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। বিষয়টি ধুরন্ধর এই সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলামকে জানালে তিনি নানা-কৌশলে কালক্ষেপন করতে থাকেন। বাধ্য হয়ে বিউটি খাতুন ও হোসেন মোল্লা বিজ্ঞ সিনিঃ জুডিঃ ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী শার্শা আদালত, যশোর এ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- সিআর ৬৫/২১।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সকল কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বিজ্ঞ আদালত বাদীদ্বয়ের পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং আসামী শহীদুল ইসলামকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৭লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন। আসামী শহীদুল ইসলাম বিজ্ঞ আদালতে ৩লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা প্রদান করে জামিন গ্রহণ করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি ৩লক্ষ ৭৫হাজার টাকা প্রদান না করায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে বাগেরহাট পুলিশ সুপার বরাবর কপি প্রেরণ করেন। সাজাপ্রাপ্ত এ আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে দীর্ঘদিন স্ব-কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলাম। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/03/12/পলাশে-৫-ইটভাটায়-জরিমানা/

মামলার বাদী বিউটি খাতুন ও হোসেন মোল্লা জানান, আমাদের পরিচিত হওয়ার সুবাদে ব্যবসায়িক পার্টনার করার কথা বলে সার্ভেয়ার শহীদুল আমাদের কাছ কাগজে-কলমে ৭লক্ষ ৫০হাজার টাকা নিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে মৌখিকভাবে আরও প্রায় ১০-১২ লক্ষ টাকা নিয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানান টাল-বাহনা করেন। আমরা আদালতে মামলা করেছি এবং রায়ও পেয়েছি। তার সাজা হয়েছে, কিন্তু পুলিশ তাকে কেন গ্রেফতার করছে না এটা আমরা জানি না। আমরা আসামীকে দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি।

ঘটনার বিষয়ে সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি এটা সত্য। আদালতের মাধ্যমে ৩লক্ষ ৭৫হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে আনুমানিক ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। পুরো টাকা পরিশোধের পর বাদীপক্ষের সাথে আপোষ করে নিবো।

এ বিষয়ে ফকিরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ নেওয়াজ’র নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আজ জানার পরে আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যেহেতু তিনি সাজাপ্রাপ্ত এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে, সেক্ষেত্রে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/03/12/ফুলবাড়ী-ব্যাটালিয়ন-কর্/

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকার পরও সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে আটক না করার বিষয়ে ফকিরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ সাইফুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানাটি মোড়লগঞ্জ থানার। রিকুইজেশন ছাড়া আমার পক্ষে গ্রেফতার করা সম্ভব নয়। আপনি চাইলে এসপি স্যারের সাথে কথা বলতে পারেন। মোড়লগঞ্জ থানা যদি আমাকে রিকুইজেশন দেয় তাহলে আমি আটক করে নিয়ে আসবো।

বিষয়টি নিয়ে বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীকে জানালে তিনি তাৎক্ষনিক ফকিরহাট মডেল থানার ওসিকে দ্রুত আসামী গ্রেফতারের নির্দেশ দেন এবং জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামী বহাল তবিয়তে কিভাবে সরকারী চাকুরিতে কর্মরত থাকেন! সব কিছু জানার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করছেন না? গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকার পরও প্রশাসন কেন তাকে আটক করছে না? এমন প্রশ্ন এখন সর্বমহলে। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে অতিদ্রুত সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে গ্রেফতারপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি সচেতনমহলের।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সাজাপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার শহীদুল বহাল তবিয়তে কর্মস্থলে; গ্রেফতার নিয়ে ধুম্রজাল

আপডেট সময় : ০৩:১৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলাম (বর্তমানে ফকিরহাট উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত)। প্রভাব-বলয় তৈরি করে দীর্ঘদিন চাকুরি করেছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা ভূমি অফিসে। এসময় ঘুষ-দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ছিল তার নিত্যদিনের ঘটনা। এ উপজেলায় থাকাকালীন বিভিন্ন ধর্নাঢ্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের সাথে গড়ে তোলেন সখ্যতা। কৌশলে হাতিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, চাকুরীকালীন সময়ে শার্শা উপজেলার বেনাপোল (বড় আচড়া) গ্রামের বিউটি খাতুন ও হোসেন মোল্লার সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে ব্যবসায়িক পার্টনারের প্রস্তাব দেন। ব্যবসায়িক পার্টনার করার কথা বলে কৌশলে বিউটি খাতুন ও হোসেন মোল্লার কাছ থেকে ৭লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ধুরন্ধর এই শহীদুল। টাকা নেওয়ার কিছুদিন পর বদলী নিয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা ত্যাগ করেন সার্ভেয়ার শহীদুল। চলে আসেন বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ ভূমি অফিসে। বদলীর পর বিউটি খাতুন ও হোসেন মোল্লা একাধিকবার সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলামকে টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য বলেন। টাকা ফেরত চাইলে সার্ভেয়ার শহীদুল বিউটি খাতুনকে অগ্রণী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখার ৭লক্ষ ৫০হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করেন। বাদীদ্বয় ওই চেক নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে টাকা উত্তোলন করার সময় তার একাউন্টে টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। বিষয়টি ধুরন্ধর এই সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলামকে জানালে তিনি নানা-কৌশলে কালক্ষেপন করতে থাকেন। বাধ্য হয়ে বিউটি খাতুন ও হোসেন মোল্লা বিজ্ঞ সিনিঃ জুডিঃ ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী শার্শা আদালত, যশোর এ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- সিআর ৬৫/২১।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সকল কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বিজ্ঞ আদালত বাদীদ্বয়ের পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং আসামী শহীদুল ইসলামকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৭লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন। আসামী শহীদুল ইসলাম বিজ্ঞ আদালতে ৩লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা প্রদান করে জামিন গ্রহণ করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি ৩লক্ষ ৭৫হাজার টাকা প্রদান না করায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে বাগেরহাট পুলিশ সুপার বরাবর কপি প্রেরণ করেন। সাজাপ্রাপ্ত এ আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে দীর্ঘদিন স্ব-কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলাম। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/03/12/পলাশে-৫-ইটভাটায়-জরিমানা/

মামলার বাদী বিউটি খাতুন ও হোসেন মোল্লা জানান, আমাদের পরিচিত হওয়ার সুবাদে ব্যবসায়িক পার্টনার করার কথা বলে সার্ভেয়ার শহীদুল আমাদের কাছ কাগজে-কলমে ৭লক্ষ ৫০হাজার টাকা নিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে মৌখিকভাবে আরও প্রায় ১০-১২ লক্ষ টাকা নিয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানান টাল-বাহনা করেন। আমরা আদালতে মামলা করেছি এবং রায়ও পেয়েছি। তার সাজা হয়েছে, কিন্তু পুলিশ তাকে কেন গ্রেফতার করছে না এটা আমরা জানি না। আমরা আসামীকে দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি।

ঘটনার বিষয়ে সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি এটা সত্য। আদালতের মাধ্যমে ৩লক্ষ ৭৫হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে আনুমানিক ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। পুরো টাকা পরিশোধের পর বাদীপক্ষের সাথে আপোষ করে নিবো।

এ বিষয়ে ফকিরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ নেওয়াজ’র নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আজ জানার পরে আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যেহেতু তিনি সাজাপ্রাপ্ত এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে, সেক্ষেত্রে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/03/12/ফুলবাড়ী-ব্যাটালিয়ন-কর্/

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকার পরও সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে আটক না করার বিষয়ে ফকিরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ সাইফুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানাটি মোড়লগঞ্জ থানার। রিকুইজেশন ছাড়া আমার পক্ষে গ্রেফতার করা সম্ভব নয়। আপনি চাইলে এসপি স্যারের সাথে কথা বলতে পারেন। মোড়লগঞ্জ থানা যদি আমাকে রিকুইজেশন দেয় তাহলে আমি আটক করে নিয়ে আসবো।

বিষয়টি নিয়ে বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীকে জানালে তিনি তাৎক্ষনিক ফকিরহাট মডেল থানার ওসিকে দ্রুত আসামী গ্রেফতারের নির্দেশ দেন এবং জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামী বহাল তবিয়তে কিভাবে সরকারী চাকুরিতে কর্মরত থাকেন! সব কিছু জানার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করছেন না? গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকার পরও প্রশাসন কেন তাকে আটক করছে না? এমন প্রশ্ন এখন সর্বমহলে। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে অতিদ্রুত সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে গ্রেফতারপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি সচেতনমহলের।