মুকসুদপুর পৌরসভার পানির লাইনের দুর্ভোগ, লখরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি না পেয়ে অতিষ্ঠ গ্রাহকরা
- আপডেট সময় : ১১:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ ৯৮ বার পড়া হয়েছে
মুকসুদপুর পৌরসভার পানির লাইনের দুর্বল সরবরাহের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। বিশেষ করে পৌরসভার অবহেলিত লখরচর এলাকায় পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ দিন পানির লাইন চালু থাকে। তাও আবার পানির চাপ এতটাই কম যে অনেক সময় কল খুলেও পানি পাওয়া যায় না। ফলে রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নলকূপ বা অন্য উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। লখরচর এলাকার এক ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. রহিম শেখ বলেন, “আমরা নিয়মিত পানির বিল দেই, কিন্তু প্রয়োজনের সময় পানি পাই না। মাসে যদি ১০ দিনও পানি ঠিকমতো আসত তাহলে হয়তো কিছুটা স্বস্তি পেতাম। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক সময় কল খুলে বসে থাকতে হয়—পানি আসে না। আবার কখনো সামান্য পানি আসে, তাও এত কম চাপ যে ব্যবহার করা যায় না। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/03/19/তিস্তায়-অবৈধ-পাথর-উত্তো-2/
তিনি আরও বলেন, “পানির লাইনের সমস্যা নিয়ে আমরা অনেকবার পৌরসভার কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এমনকি অনেক সময় লাইন নষ্ট হয়ে গেলে লাইনম্যানকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেন না বা সমস্যার সমাধানে তেমন উদ্যোগ নেন না। এতে করে আমাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।”
স্থানীয়দের দাবি, শুধু লখরচর এলাকায় নয়—মুকসুদপুর পৌরসভার প্রায় সব গ্রামেই একই ধরনের সমস্যায় ভুগছেন গ্রাহকরা। নিয়মিত পানি সরবরাহ না থাকায় অনেকেই বিকল্প উপায়ে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/03/19/পলাশে-মালিতা-যুব-সংগঠনের/
এদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়মিত পানি না পেলেও প্রতি মাসে নির্ধারিত ৩০০ টাকা করে পানির বিল দিতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা মনে করেন, যদি তারা নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পানি পেতেন তাহলে এই বিল দেওয়া তাদের কাছে কোনো সমস্যা হতো না।
মো. রহিম শেখ আরও বলেন, “৩০০ টাকা আমাদের কাছে খুব বড় বিষয় না, যদি আমরা নিয়মিত পানি পাই। কিন্তু যখন মাসের বেশিরভাগ সময় পানি পাই না, তখন কেন এই বিল দিতে হবে? বিদ্যুতের ক্ষেত্রে যেমন ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে বিল দেওয়া হয়, তেমনি পানির ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম থাকা উচিত। আমরা যদি পানি না পাই, তাহলে বিল কেন দেব?”
স্থানীয়দের মধ্যে আরও একটি অভিযোগ রয়েছে—কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি পানির লাইনে মোটর ব্যবহার করে সরাসরি পানি তুলে নিচ্ছেন। তাদের ধারণা, এভাবে মোটরের মাধ্যমে পানি তোলার কারণে লাইনের স্বাভাবিক চাপ কমে যায় এবং সাধারণ গ্রাহকরা পর্যাপ্ত পানি পান না। ফলে অনেক এলাকায় কল খুলেও পানি পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় দ্রুত পানির লাইনের ত্রুটি মেরামত, মোটর ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, পৌরসভার নাগরিক হিসেবে তারা ন্যায্য ও নিয়মিত সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন।




















