ঢাকা ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

মধ্যরাতের শিলাবৃষ্টি নীলফামারীর ডোমার ও জলঢাকায় উপজেলায় ফসল ও বসতবাড়ী ব্যাপক ক্ষতি

আরিফুল ইসলাম আরিফ, নীলফামারী প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:১৬:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

মধ্যরাতের শিলাবৃষ্টি নীলফামারীর ডোমার ও জলঢাকায় উপজেলায় ফসল ও বসতবাড়ী ব্যাপক ক্ষতি

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নীলফামারীর ডোমার উপজেলা ও জলঢাকা উপজেলা জুড়ে শনিবার গভীর রাতে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে নেমে আসে ভয়াবহ তাণ্ডব। অপ্রত্যাশিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি মাঠের ফসল ও বসতবাড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত গভীর হতেই হঠাৎ করে শুরু হয় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী শিলাবৃষ্টি। বড় আকারের শিলার আঘাতে মুহূর্তেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। আতঙ্কে ঘুম ভেঙে যায় মানুষের অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দশ বছরের মধ্যে এমন তীব্র শিলাবৃষ্টির অভিজ্ঞতা তাদের হয়নি।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টির আঘাতে ভুট্টা, মরিচ, আলু ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে ঝোড়ো বাতাসে উঠতি ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, ফলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভুট্টা ও মরিচ চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে।শুধু কৃষিক্ষেত্রেই নয়, বসতবাড়িতেও নেমে এসেছে দুর্ভোগ। শিলার আঘাতে অসংখ্য টিনের ঘরের চাল ফুটো হয়ে গেছে। গভীর রাতে বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। অনেক পরিবার রাত কাটিয়েছেন উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কয়েকটি পূজামণ্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা স্থানীয়দের মাঝে দুঃখ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর রহমান জানান, আকস্মিক এই দুর্যোগের পর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।তিনি বলেন,পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ শেষে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র তুলে ধরা হবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।হঠাৎ নেমে আসা এই দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা ক্ষতি কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যরাতের শিলাবৃষ্টি নীলফামারীর ডোমার ও জলঢাকায় উপজেলায় ফসল ও বসতবাড়ী ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট সময় : ০৩:১৬:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

নীলফামারীর ডোমার উপজেলা ও জলঢাকা উপজেলা জুড়ে শনিবার গভীর রাতে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে নেমে আসে ভয়াবহ তাণ্ডব। অপ্রত্যাশিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি মাঠের ফসল ও বসতবাড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত গভীর হতেই হঠাৎ করে শুরু হয় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী শিলাবৃষ্টি। বড় আকারের শিলার আঘাতে মুহূর্তেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। আতঙ্কে ঘুম ভেঙে যায় মানুষের অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দশ বছরের মধ্যে এমন তীব্র শিলাবৃষ্টির অভিজ্ঞতা তাদের হয়নি।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টির আঘাতে ভুট্টা, মরিচ, আলু ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে ঝোড়ো বাতাসে উঠতি ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, ফলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভুট্টা ও মরিচ চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে।শুধু কৃষিক্ষেত্রেই নয়, বসতবাড়িতেও নেমে এসেছে দুর্ভোগ। শিলার আঘাতে অসংখ্য টিনের ঘরের চাল ফুটো হয়ে গেছে। গভীর রাতে বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। অনেক পরিবার রাত কাটিয়েছেন উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কয়েকটি পূজামণ্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা স্থানীয়দের মাঝে দুঃখ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর রহমান জানান, আকস্মিক এই দুর্যোগের পর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।তিনি বলেন,পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ শেষে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র তুলে ধরা হবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।হঠাৎ নেমে আসা এই দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা ক্ষতি কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।