শ্রম অধিকার ও দুর্নীতিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ – যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্ট
- আপডেট সময় : ১২:০৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে দুর্নীতি এবং সরকারি কেনাকাটার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় বাধা। এটি তাদের ব্যবসায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিচ্ছে। এছাড়াও, বাংলাদেশ শ্রম অধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের শ্রম আইন বাস্তবায়নে পিছিয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক রিপোর্টে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন মতামত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় গত মঙ্গলবার ২০২৬ সালের বার্ষিক ‘ন্যাশনাল ট্রেড এস্টিমেট (এনটিই) রিপোর্ট অন ফরেন ট্রেড ব্যারিয়ার্স’ নামে রিপোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন কংগ্রেসের কাছে প্রকাশ করেছে।
রিপোর্টটি ইউএসটিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানিগুলো ব্যবসা করতে যেসব বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ একটি জাতীয় ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় পোর্টাল (ই-জিপি) চালু করলেও পুরোনো কারিগরি স্পেসিফিকেশন ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট বিডারদের সুবিধা দেওয়ার জন্য শর্তাবলি সাজানো হয়। প্রতিবেদনে দুর্নীতিকে বাংলাদেশের একটি ‘সর্বব্যাপী ও দীর্ঘস্থায়ী’ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী আইনের প্রয়োগ অপর্যাপ্ত। মার্কিন কোম্পানিগুলো অভিযোগ করেছে যে, লাইসেন্স ও দরপত্র অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কারণ সরকারি কর্মকর্তারা ঘুষ দাবি করেন।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/01/প্রাথমিক-বিদ্যালয়ে-বিনা/
সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে সরকারি টেন্ডারে কারসাজির অভিযোগ করেছে। বেশ কিছু মার্কিন প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, তাদের বিদেশি প্রতিযোগীরা স্থানীয় অংশীদারদের ব্যবহার করে ক্রয় প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রগুলোকে আটকে দেয়। শ্রম অধিকার ও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখনও জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ পাস করেছে, যা শ্রমিকদের অধিকার শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাধাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি এ বছরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি স্বাক্ষর হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে এসব বাধা কার্যকরভাবে অপসারণে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ প্রোগ্রামের আওতায় বেশ কিছু দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাজার সুবিধা দিতে সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার রক্ষা এবং জবরদস্তিমূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ১১০ কোটি ডলার বেড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য রপ্তানি ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে সাড়ে ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। পণ্য বাণিজ্যে পিছিয়ে থাকলেও সেবা বাণিজ্যে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালে সেবা বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে উদ্বৃত্ত ছিল ৯২ কোটি ছয় লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ কোটি সাত লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/01/দোয়ারাবাজারে-অসহায়-মুচ/
বাড়তি শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে বলা যায়, ইউএসটিআর এমন সময়ে বাণিজ্য বাধা বিষয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যখন অন্য দেশের মতো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যের অভিযোগ এনে শুল্ক বাড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। কেননা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ট্রাম্প আরোপিত বাড়তি শুল্ক সম্প্রতি বাতিল করেছে।
গত বছরের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করে। যা পরে কমিয়ে ৩২ শতাংশ করার ঘোষণা দেয়। দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ নানা দেনদরবার শুরু করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, এতে নিয়মিত শুল্কহারের অতিরিক্ত হিসাবে ১৯ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়। শুধু শর্ত সাপেক্ষে তৈরি পোশাকে শুল্কহার শূন্য করার কথা বলা হয়। যার লক্ষ্য ছিল বাণিজ্য ভারসাম্য ও বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়গুলো সমাধান করা। গত ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সে দেশের প্রেসিডেন্টের জারি করা ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ আদেশ অবৈধ এবং বাতিল ঘোষণা করে। ফলে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয় এবং বাংলাদেশ চুক্তি বাস্তবায়নে ‘ধীরে চল


























