অবহেলায় মৃত্যুফাঁদ: আলমডাঙ্গার ঐতিহাসিক ‘জোড়া কোঠা’ এখন নীরব আতঙ্ক
- আপডেট সময় : ১১:৫৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০৪ বার পড়া হয়েছে
আলমডাঙ্গা শহরের ব্যস্ততম চারতলার মোড় থেকে এরশাদপুর অভিমুখী সড়কের রথতলায় দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব মৃত্যুফাঁদ—ঐতিহাসিক ‘জোড়া কোঠা’। সময়ের সাক্ষী হয়ে ওঠা এই স্থাপনাটি আজ যেন নিজের অস্তিত্ব নিয়েই লড়াই করছে। একসময় যেখানে ইতিহাসের গর্ব ছিল, আজ সেখানে ভর করেছে আতঙ্ক, শঙ্কা আর অনিশ্চয়তা।
একদিন এই ‘জোড়া কোঠা’ ছিল এলাকার ঐতিহ্যের প্রতীক। পুরনো দিনের স্থাপত্যশৈলী আর ইতিহাসের ছাপ বহনকারী এই ভবনটি ছিল অনেকের স্মৃতির অংশ। কিন্তু কালের নির্মম আঘাতে সেই গৌরব আজ ধ্বংসস্তূপের দ্বারপ্রান্তে। দেয়ালের গভীর ফাটল, খসে পড়া ইট, ঝুলে থাকা কাঠামো—সব মিলিয়ে এটি এখন এক ভয়ঙ্কর বিপদের উৎস। মনে হয়, সামান্য ঝাঁকুনিতেই যেন ধসে পড়বে পুরো ভবনটি। দিনভর অসংখ্য মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। স্কুলগামী শিশু, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী—সবাইকে প্রতিনিয়ত এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশ দিয়েই যেতে হয়।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/06/মুকসুদপুরে-পিআইওর-বিরুদ্/
স্থানীয় এক বাসিন্দার কণ্ঠে আতঙ্ক স্পষ্ট।“এটা আর ভবন না, যেন যমদূত দাঁড়িয়ে আছে। কখন যে ধসে পড়ে, কেউ জানি না!”একটি ইট খসে পড়লেই ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। একটু ঝড়-বৃষ্টি, কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আর তাতেই হয়তো শেষ হয়ে যেতে পারে অনেক নিরীহ প্রাণের গল্প। এলাকাবাসীর দাবি, এই ভবনটি নিয়ে বহুবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। প্রশ্ন উঠছে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ কিংবা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বাস্তবে সেই দাবির প্রতিফলন নেই। ফলে দিন দিন বাড়ছে মানুষের ক্ষোভ ও উদ্বেগ। ভবনটির প্রতিটি ফাটল যেন আগাম বিপদের সংকেত দিচ্ছে। দেয়ালের চামড়া খসে পড়ছে, ভেতরের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে, আর পুরো স্থাপনাটি হেলে পড়েছে বিপজ্জনকভাবে। এ যেন একটি ‘টাইম বোমা’, যার বিস্ফোরণের সময় কেউ জানে না—কিন্তু যে কোনো মুহূর্তে তা ঘটতে পারে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/06/লাইসেন্সধারী-মালিক-অসহায/
এলাকাবাসীর একটাই দাবি। যদি এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণযোগ্য হয়, তবে দ্রুত সংস্কার করা হোক। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত অপসারণ করা হোক। কারণ, একটি ভবনের চেয়ে মানুষের জীবন অনেক বেশি মূল্যবান। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে আজ ‘জোড়া কোঠা’ শুধু একটি জরাজীর্ণ ভবন নয়, এটি অবহেলা আর উদাসীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন মানুষ এর পাশ দিয়ে যায় বুকভরা ভয় নিয়ে—হয়তো এটাই শেষ যাওয়া!এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে একদিন এই নীরব আতঙ্ক ভয়াবহ বাস্তবে রূপ নেবে। সেদিন হয়তো থাকবে না কোনো প্রতিকার—থাকবে শুধু শোক, আর প্রশ্ন। “আগে ব্যবস্থা নিলে কি এই দুর্ঘটনা ঠেকানো যেত না?”




















