ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

গাজীপুরে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু: ‘ভয়ের কারণ নেই’ বললেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দীল আফরোজা, গাজীপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:০২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু: ‘ভয়ের কারণ নেই’ বললেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার প্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এম এ মুহিত বলেন, সরকার শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় ইতোমধ্যে বিশেষ টিকাদান শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একটি শিশুও যেন টিকার আওতার বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে। ইনশাআল্লাহ, ভয়ের কোনো কারণ নেই।

টিকার ঘাটতি প্রসঙ্গে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পারলে আমরা একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবো। সরকার দায়িত্বশীলভাবে কাজ শুরু করেছে এবং টিকার কোনো ঘাটতি থাকবে না। যেখানে টিকার ঘাটতি রয়েছে, তা দ্রুত পূরণে কাজ চলছে। হাম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থাও এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি সফল করতে জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর-২ এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল করিম ভূঁইয়া, পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন, গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা: হারুন অর রশিদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফের প্রতিনিধিবৃন্দ।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/06/অবহেলায়-মৃত্যুফাঁদ-আলম-2/

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৯ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন: ৪৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ২০ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ২৮ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনব্যাপী এ কর্মসূচি জেলার সদর, টঙ্গী, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ ও পুবাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র, এসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে অভিভাবকদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, সময়োপযোগী এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাম ও রুবেলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে। অভিভাবকদের সচেতনতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই কার্যক্রম সফল করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজীপুরে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু: ‘ভয়ের কারণ নেই’ বললেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:০২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার প্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এম এ মুহিত বলেন, সরকার শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় ইতোমধ্যে বিশেষ টিকাদান শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একটি শিশুও যেন টিকার আওতার বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে। ইনশাআল্লাহ, ভয়ের কোনো কারণ নেই।

টিকার ঘাটতি প্রসঙ্গে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পারলে আমরা একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবো। সরকার দায়িত্বশীলভাবে কাজ শুরু করেছে এবং টিকার কোনো ঘাটতি থাকবে না। যেখানে টিকার ঘাটতি রয়েছে, তা দ্রুত পূরণে কাজ চলছে। হাম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থাও এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি সফল করতে জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর-২ এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল করিম ভূঁইয়া, পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন, গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা: হারুন অর রশিদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফের প্রতিনিধিবৃন্দ।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/06/অবহেলায়-মৃত্যুফাঁদ-আলম-2/

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৯ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন: ৪৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ২০ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ২৮ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনব্যাপী এ কর্মসূচি জেলার সদর, টঙ্গী, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ ও পুবাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র, এসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে অভিভাবকদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, সময়োপযোগী এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাম ও রুবেলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে। অভিভাবকদের সচেতনতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই কার্যক্রম সফল করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।