স্টেশন বন্ধের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ
- আপডেট সময় : ০২:৪১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ ৮৯ বার পড়া হয়েছে
দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাজারে চলমান সরবরাহ সংকটের কারণে সম্প্রতি প্রায় ৩০ শতাংশ অটোগ্যাস স্টেশন বন্ধ থাকলেও এখন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশেনের সভাপতি ইঞ্জি. মো. সিরাজুল মাওলা বলেছেন, কালের কণ্ঠে সংকট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে সরবরাহ পরিস্থিতিতে উন্নতি দেখা যাচ্ছে এবং প্রায় সব স্টেশনে এখন গ্যাস পৌঁছাতে শুরু করেছে।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে এলপিজি আমদানি বাড়লেও বাজারে সরবরাহ ঘাটতির কারণে প্রায় ৩০ শতাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যায় এবং চালু স্টেশনগুলোও সীমিতভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছিল। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ১.৫ থেকে ২ লাখ এলপিজিচালিত যানবাহন রয়েছে। সংকটের কারণে অনেক চালক একাধিক স্টেশন ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে বিকল্প জ্বালানি যেমন সিএনজি বা অকটেন ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা অন্য জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/09/কর্ম-হারিয়ে-দেশে-আসা-প্র/
অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের দাবি, দেশে প্রায় ৩০টি এলপিজি অপারেটরের মধ্যে মাত্র ৬–৭টি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম চালাচ্ছে, ফলে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে অনেক স্টেশন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চে দেশে প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফেব্রুয়ারিতেও আমদানি ছিল প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার টন। তবে আমদানি বাড়লেও বাজারে তার প্রভাব পুরোপুরি পড়ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/09/রেলওয়ের-সক্ষমতা-বাড়াতে/
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, আমদানি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হলেও মাঠপর্যায়ে ডিলার পর্যায়ে মজুদ ও বিতরণ ব্যবস্থার কারণে কখনো কখনো কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, স্টেশন পরিচালনা ও সরবরাহ ব্যবস্থার পুরো নিয়ন্ত্রণ আমদানিকারকদের হাতে নেই, ফলে সংকটের জন্য এককভাবে কাউকে দায়ী করা ঠিক হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানি বৃদ্ধি সত্ত্বেও বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বাজারে ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভোক্তা ও পরিবহন খাতে।


























