ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিতে নতুন দিগন্তের স্বপ্ন

বশিরুল আলম, স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ৬৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল—সম্ভাবনার এক উর্বর ভাণ্ডার। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাব বোধ করে আসছে। সেই শূন্যতা পূরণে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে প্রস্তাবিত “চুয়াডাঙ্গা কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়”। ঢাকায় অবস্থানরত চুয়াডাঙ্গাবাসীর সংগঠন চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিতির উদ্যোগে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবনা সামনে এসেছে, যা ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণসহ সচেতন মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। চুয়াডাঙ্গা ও আশপাশের জেলাগুলো কৃষি উৎপাদনে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল। প্রায় শতভাগ সেচ সুবিধা, উর্বর জমি এবং বহুমুখী ফসল উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আধুনিক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান না থাকায় কৃষির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে এ অঞ্চলের কৃষি হবে আরও আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও লাভজনক।

প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি, কৃষি প্রকৌশল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন অনুষদের পাশাপাশি বায়োটেকনোলজি, জলবায়ু সহনশীল কৃষি গবেষণা এবং Agri-Startup ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।এখানে মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যার সমাধানভিত্তিক শিক্ষা, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য ব্যক্তিরা যুক্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/26/ফাঁসিদেওয়ায়-সাইকেল-নিয/

উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন: বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লন্টু, সভাপতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিতি, ঢাকা।
কৃষিবিদ মো. নিহারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিতি, ঢাকা।

আহ্বায়ক কমিটিতে রয়েছেন: প্রফেসর ড. খন্দকার শরিফুল ইসলাম, আহ্বায়ক (ডিন, এগ্রিকালচারাল ফ্যাকাল্টি, সিটি ইউনিভার্সিটি)। ড. মো. সুরাতুজ্জামান, সদস্য (সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সাবেক সহকারী সচিব; অতিরিক্ত সচিব)। প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান, সদস্য (পরিচালক, যুগ্ম সচিব, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ)। ড. মাসুদুল হক ঝন্টু, সদস্য (পিএসও ও প্রজেক্ট ডাইরেক্টর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর)। ড. মোঃ আব্দুল মালেক, সদস্য (প্রফেসর, কীটতত্ত্ব বিভাগ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)। ফারুক আহমেদ, সদস্য সচিব (পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট)।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/26/সড়ক-উদ্বোধনের-আগেই-ফাটল/

চুয়াডাঙ্গা কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা নয়—এটি একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তি, কৃষির আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনা তৈরির লড়াই।
এখন প্রয়োজন সরকারের আন্তরিক দৃষ্টি ও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ। বাস্তবায়িত হলে এই বিশ্ববিদ্যালয় বদলে দিতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনমান। স্বপ্ন এখন একটাই—চুয়াডাঙ্গায় গড়ে উঠুক একটি আন্তর্জাতিক মানের কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিতে নতুন দিগন্তের স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০১:২৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল—সম্ভাবনার এক উর্বর ভাণ্ডার। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাব বোধ করে আসছে। সেই শূন্যতা পূরণে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে প্রস্তাবিত “চুয়াডাঙ্গা কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়”। ঢাকায় অবস্থানরত চুয়াডাঙ্গাবাসীর সংগঠন চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিতির উদ্যোগে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবনা সামনে এসেছে, যা ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণসহ সচেতন মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। চুয়াডাঙ্গা ও আশপাশের জেলাগুলো কৃষি উৎপাদনে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল। প্রায় শতভাগ সেচ সুবিধা, উর্বর জমি এবং বহুমুখী ফসল উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আধুনিক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান না থাকায় কৃষির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে এ অঞ্চলের কৃষি হবে আরও আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও লাভজনক।

প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি, কৃষি প্রকৌশল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন অনুষদের পাশাপাশি বায়োটেকনোলজি, জলবায়ু সহনশীল কৃষি গবেষণা এবং Agri-Startup ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।এখানে মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যার সমাধানভিত্তিক শিক্ষা, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য ব্যক্তিরা যুক্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/26/ফাঁসিদেওয়ায়-সাইকেল-নিয/

উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন: বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লন্টু, সভাপতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিতি, ঢাকা।
কৃষিবিদ মো. নিহারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিতি, ঢাকা।

আহ্বায়ক কমিটিতে রয়েছেন: প্রফেসর ড. খন্দকার শরিফুল ইসলাম, আহ্বায়ক (ডিন, এগ্রিকালচারাল ফ্যাকাল্টি, সিটি ইউনিভার্সিটি)। ড. মো. সুরাতুজ্জামান, সদস্য (সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সাবেক সহকারী সচিব; অতিরিক্ত সচিব)। প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান, সদস্য (পরিচালক, যুগ্ম সচিব, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ)। ড. মাসুদুল হক ঝন্টু, সদস্য (পিএসও ও প্রজেক্ট ডাইরেক্টর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর)। ড. মোঃ আব্দুল মালেক, সদস্য (প্রফেসর, কীটতত্ত্ব বিভাগ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)। ফারুক আহমেদ, সদস্য সচিব (পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট)।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/26/সড়ক-উদ্বোধনের-আগেই-ফাটল/

চুয়াডাঙ্গা কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা নয়—এটি একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তি, কৃষির আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনা তৈরির লড়াই।
এখন প্রয়োজন সরকারের আন্তরিক দৃষ্টি ও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ। বাস্তবায়িত হলে এই বিশ্ববিদ্যালয় বদলে দিতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনমান। স্বপ্ন এখন একটাই—চুয়াডাঙ্গায় গড়ে উঠুক একটি আন্তর্জাতিক মানের কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।