ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

আসমানখালিতে টিউবওয়েলের জলধারা: দুর্ভোগ পেরিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস অসহায় পরিবারে

বশিরুল আলম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৭৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আসমানখালি গ্রাম—নামটি ছোট, কিন্তু এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের গল্প ছিল গভীর। বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রতিদিনের জীবন যেন হয়ে উঠেছিল এক অনন্ত সংগ্রাম। সেই সংগ্রামের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত কয়েকটি পরিবার। গতকাল সকাল ১০টায় আসমানখালিতে টিউবওয়েল বিতরণ ও স্থাপন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। প্রবাসে অবস্থানরত সমাজসেবক জামিলের ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়। এ কাজে স্থানীয় প্রতিনিধি চঞ্চল হোসেন ও শামীম রেজা সার্বিক সহযোগিতা করেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে ভুগছিলেন এলাকার কয়েকটি পরিবার। কেউ দূরবর্তী পুকুর বা অপরিষ্কার জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করতেন, আবার কেউ অন্যের বাড়ির টিউবওয়েলের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। ফলে প্রতিদিনই তাদের সময়, শ্রম ও স্বাস্থ্য—সবকিছুর ওপর পড়ছিল নেতিবাচক প্রভাব।বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোর থেকে শুরু করে দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাটত পানির সন্ধানে। অনেক সময় দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে দেখা দিত নানা পানিবাহিত রোগ।

তবুও ছিল না কোনো বিকল্প ব্যবস্থা।এই দুঃখ-কষ্টের চিত্র প্রবাসে থাকা জামিলের নজরে আসতেই তিনি আর দেরি করেননি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে এসে টিউবওয়েল স্থাপনের উদ্যোগ নেন। তার এই ছোট্ট উদ্যোগ যেন আসমানখালির মানুষের জীবনে এনে দিয়েছে এক বিশাল পরিবর্তন।টিউবওয়েল স্থাপনের পর উপকারভোগী পরিবারগুলোর মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। এখন আর পানি সংগ্রহের জন্য দূরে যেতে হচ্ছে না, নেই আগের মতো অনিশ্চয়তা ও কষ্ট। নিরাপদ পানির সহজ প্রাপ্তি তাদের দৈনন্দিন জীবনকে করেছে অনেকটাই সহজ ও স্বাস্থ্যকর। একজন উপকারভোগী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরে কষ্টে ছিলাম। পানি আনতে অনেক দূরে যেতে হতো। এখন নিজের বাড়ির কাছে পরিষ্কার পানি পাচ্ছি—এটা আমাদের জন্য আশীর্বাদ।”

স্থানীয়রা মনে করেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণই করে না, বরং সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। আসমানখালির এই ছোট্ট উদ্যোগ যেন বড় এক বার্তা দেয়— মানুষ মানুষের জন্য, আর একটু সহানুভূতিই বদলে দিতে পারে অসংখ্য জীবনের গল্প।

নিউজটি শেয়ার করুন

আসমানখালিতে টিউবওয়েলের জলধারা: দুর্ভোগ পেরিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস অসহায় পরিবারে

আপডেট সময় : ১১:৩১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আসমানখালি গ্রাম—নামটি ছোট, কিন্তু এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের গল্প ছিল গভীর। বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রতিদিনের জীবন যেন হয়ে উঠেছিল এক অনন্ত সংগ্রাম। সেই সংগ্রামের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত কয়েকটি পরিবার। গতকাল সকাল ১০টায় আসমানখালিতে টিউবওয়েল বিতরণ ও স্থাপন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। প্রবাসে অবস্থানরত সমাজসেবক জামিলের ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়। এ কাজে স্থানীয় প্রতিনিধি চঞ্চল হোসেন ও শামীম রেজা সার্বিক সহযোগিতা করেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে ভুগছিলেন এলাকার কয়েকটি পরিবার। কেউ দূরবর্তী পুকুর বা অপরিষ্কার জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করতেন, আবার কেউ অন্যের বাড়ির টিউবওয়েলের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। ফলে প্রতিদিনই তাদের সময়, শ্রম ও স্বাস্থ্য—সবকিছুর ওপর পড়ছিল নেতিবাচক প্রভাব।বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোর থেকে শুরু করে দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাটত পানির সন্ধানে। অনেক সময় দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে দেখা দিত নানা পানিবাহিত রোগ।

তবুও ছিল না কোনো বিকল্প ব্যবস্থা।এই দুঃখ-কষ্টের চিত্র প্রবাসে থাকা জামিলের নজরে আসতেই তিনি আর দেরি করেননি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে এসে টিউবওয়েল স্থাপনের উদ্যোগ নেন। তার এই ছোট্ট উদ্যোগ যেন আসমানখালির মানুষের জীবনে এনে দিয়েছে এক বিশাল পরিবর্তন।টিউবওয়েল স্থাপনের পর উপকারভোগী পরিবারগুলোর মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। এখন আর পানি সংগ্রহের জন্য দূরে যেতে হচ্ছে না, নেই আগের মতো অনিশ্চয়তা ও কষ্ট। নিরাপদ পানির সহজ প্রাপ্তি তাদের দৈনন্দিন জীবনকে করেছে অনেকটাই সহজ ও স্বাস্থ্যকর। একজন উপকারভোগী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরে কষ্টে ছিলাম। পানি আনতে অনেক দূরে যেতে হতো। এখন নিজের বাড়ির কাছে পরিষ্কার পানি পাচ্ছি—এটা আমাদের জন্য আশীর্বাদ।”

স্থানীয়রা মনে করেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণই করে না, বরং সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। আসমানখালির এই ছোট্ট উদ্যোগ যেন বড় এক বার্তা দেয়— মানুষ মানুষের জন্য, আর একটু সহানুভূতিই বদলে দিতে পারে অসংখ্য জীবনের গল্প।