ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
আগুন থেকে বাঁচতে ভবন থেকে ঝাঁপ, লখনৌতে নিহত ১১ আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য চোরাইকৃত মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার পদ্মা নদীতে চাঁদাবাজির সময় দুই যুবক আটক, নগদ টাকা ও ট্রলার জব্দ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা সফল, ৬০ দিনের রোডম্যাপে সমঝোতা: শেহবাজ শরিফ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিতর্কের মুখে তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিচারাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র: খন্দকার মোঃ আছাদুজ্জামান ২৩ জুন সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে এনসিপি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে গাঁজা সেবনের অভিযোগে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ মাদারীপুরে চলাচলের পথ বন্ধের অভিযোগে সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা

রামেকে পুলিশ, নার্স হাতাহাতি

মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এক সিনিয়র স্টাফ নার্স ও এক পুলিশ কনস্টেবলের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের অর্থোসার্জারি ইউনিট-২ -এর ডেন্টাল ইউনিটে এ ঘটনা ঘটে । জানা গেছে, নগরের শাহমখদুম থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম তাঁর মা নূরেসা বেগমকে দাঁতের সমস্যাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন আমিনুল ইসলাম। যদিও অভিযুক্ত ব্রাদার রাকিব আহম্মেদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কনস্টেবল আমিনুল ও ব্রাদার রাকিবের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে অন্যান্য নার্স ও স্টাফরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং আমিনুল ইসলামকে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালের পুলিশ বক্স থেকে সদস্যরা এসে তাকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও হাসপাতাল পরিচালকের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। মধ্যরাতে তিনি মায়ের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

ঘটনার বিষয়ে কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম বলেন, মায়ের চোয়াল বসে গিয়ে মুখ বেঁকে যাওয়ার পর তিনি জরুরি বিভাগে নেন। সেখান থেকে অপারেশন থিয়েটার হয়ে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। তিনি দাবি করেন, দায়িত্বরত কেউই প্রাথমিক সহায়তা দিতে রাজি হননি, যা নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে ব্রাদার রাকিব আহম্মেদ বলেন, রোগীকে আনার সময়ই তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল এবং তিনি কোনো সাড়া পাচ্ছিলেন না। বিষয়টি জানানোর পরই কনস্টেবল আমিনুল তার ওপর শারীরিকভাবে হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা করার কথা বিবেচনা করলেও পরে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। তবে এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাকিব আহম্মেদ নগর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শাহমখদুম থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। যেহেতু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুলিশ সদস্য, তাই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রামেকে পুলিশ, নার্স হাতাহাতি

আপডেট সময় : ১০:৫৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এক সিনিয়র স্টাফ নার্স ও এক পুলিশ কনস্টেবলের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের অর্থোসার্জারি ইউনিট-২ -এর ডেন্টাল ইউনিটে এ ঘটনা ঘটে । জানা গেছে, নগরের শাহমখদুম থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম তাঁর মা নূরেসা বেগমকে দাঁতের সমস্যাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন আমিনুল ইসলাম। যদিও অভিযুক্ত ব্রাদার রাকিব আহম্মেদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কনস্টেবল আমিনুল ও ব্রাদার রাকিবের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে অন্যান্য নার্স ও স্টাফরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং আমিনুল ইসলামকে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালের পুলিশ বক্স থেকে সদস্যরা এসে তাকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও হাসপাতাল পরিচালকের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। মধ্যরাতে তিনি মায়ের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

ঘটনার বিষয়ে কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম বলেন, মায়ের চোয়াল বসে গিয়ে মুখ বেঁকে যাওয়ার পর তিনি জরুরি বিভাগে নেন। সেখান থেকে অপারেশন থিয়েটার হয়ে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। তিনি দাবি করেন, দায়িত্বরত কেউই প্রাথমিক সহায়তা দিতে রাজি হননি, যা নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে ব্রাদার রাকিব আহম্মেদ বলেন, রোগীকে আনার সময়ই তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল এবং তিনি কোনো সাড়া পাচ্ছিলেন না। বিষয়টি জানানোর পরই কনস্টেবল আমিনুল তার ওপর শারীরিকভাবে হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা করার কথা বিবেচনা করলেও পরে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। তবে এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাকিব আহম্মেদ নগর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শাহমখদুম থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। যেহেতু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুলিশ সদস্য, তাই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।