ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গায় সড়কে বিশৃঙ্খলা, বাস-ইজিবাইক দ্বন্দ্বে সমাধানের খোঁজে প্রশাসন

বশিরুল আলম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গাঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩২:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চুয়াডাঙ্গায় সড়কজুড়ে দীর্ঘদিনের বাস ও ইজিবাইক দ্বন্দ্ব এবার প্রশাসনের টেবিলে। যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় উঠে এসেছে নানা অসঙ্গতি, অভিযোগ আর বাস্তবতার চিত্র। একই সঙ্গে সমস্যা চিহ্নিত করে টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে একটি কমিটি, যাদের ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্বকারী জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার সরাসরি বাস সার্ভিসের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। তার ভাষায়, অনেক বাসে ভাঙাচোরা সিট, অচল ফ্যান, অতিরিক্ত ভিড়—সব মিলিয়ে যাত্রীরা স্বস্তি পান না। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তিনি বলেন,“সেবা ভালো হলে যাত্রী নিজেই বাসে উঠবে। লাঠি দিয়ে পিটিয়ে যাত্রী ওঠানোর কোনো অধিকার কারও নেই।”বাসের অনিয়মিত স্টপেজ, অতিরিক্ত যাত্রী তোলা এবং সময়ক্ষেপণ নিয়েও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে, ইজিবাইককে ঘিরে রয়েছে দ্বৈত বাস্তবতা। একদিকে এটি সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও স্বস্তিদায়ক বাহন, অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও লাইসেন্স জটিলতা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, মহাসড়কে ইজিবাইক চলাচল নিষিদ্ধ হলেও অভ্যন্তরীণ সড়কে তা চালানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এগুলোর কোনো কেন্দ্রীয় লাইসেন্সিং ব্যবস্থা না থাকায় নিয়ন্ত্রণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বাস-মালিক সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ইজিবাইক দূরপাল্লার রুটে যাত্রী পরিবহন করে তাদের ব্যবসায় ক্ষতি করছে। তারা ইজিবাইক চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে রঙভিত্তিক বিভাজনের প্রস্তাব দেন—পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়নভিত্তিক আলাদা চিহ্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ সহজ করার দাবি তোলেন।“ সভায় সাধারণ যাত্রী ও সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ আসে—কিছু রুটে বাস শ্রমিকদের দ্বারা ইজিবাইক যাত্রীদের জোর করে নামানো, এমনকি লাঠিপেটার ঘটনাও ঘটছে।

একজন যাত্রীর ভাষায়,“রোগী বা শিশুদেরও নামিয়ে দেওয়া হয়। এটা অমানবিক।”জেলা প্রশাসক এ ধরনের কর্মকাণ্ডকেবেআইনি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর অবস্থান নেন। সভায় আলোচনায় উঠে আসে কিছু বাস্তবধর্মী প্রস্তাব— ইজিবাইকের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ,  বাসের নির্দিষ্ট স্টপেজ নিশ্চিত করা, ফিটনেসবিহীন শ্রমিকদের আচরণগত প্রশিক্ষণ, ইজিবাইক নিবন্ধন ও তালিকা প্রণয়ন,  এছাড়া রোগী পরিবহনসহ জরুরি সেবায় ইজিবাইকের ব্যবহার অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বাস মালিক, ইজিবাইক চালক ও যাত্রী—সব পক্ষের সমস্যা চিহ্নিত করে ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ দেবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে পরবর্তী কার্যক্রম।
সভায় বক্তারা একমত হন—ইজিবাইককে সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব নয়, আবার বাস খাতকেও টিকিয়ে রাখতে হবে। তাই সংঘাত নয়, প্রয়োজন সমন্বয়। চুয়াডাঙ্গার এই সংকট এখন কেবল পরিবহন সমস্যা নয়, এটি জনস্বার্থ, জীবিকা ও সেবার ভারসাম্যের প্রশ্ন। প্রশাসনের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, ড়এখন সেদিকেই তাকিয়ে জেলাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

চুয়াডাঙ্গায় সড়কে বিশৃঙ্খলা, বাস-ইজিবাইক দ্বন্দ্বে সমাধানের খোঁজে প্রশাসন

আপডেট সময় : ১১:৩২:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় সড়কজুড়ে দীর্ঘদিনের বাস ও ইজিবাইক দ্বন্দ্ব এবার প্রশাসনের টেবিলে। যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় উঠে এসেছে নানা অসঙ্গতি, অভিযোগ আর বাস্তবতার চিত্র। একই সঙ্গে সমস্যা চিহ্নিত করে টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে একটি কমিটি, যাদের ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্বকারী জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার সরাসরি বাস সার্ভিসের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। তার ভাষায়, অনেক বাসে ভাঙাচোরা সিট, অচল ফ্যান, অতিরিক্ত ভিড়—সব মিলিয়ে যাত্রীরা স্বস্তি পান না। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তিনি বলেন,“সেবা ভালো হলে যাত্রী নিজেই বাসে উঠবে। লাঠি দিয়ে পিটিয়ে যাত্রী ওঠানোর কোনো অধিকার কারও নেই।”বাসের অনিয়মিত স্টপেজ, অতিরিক্ত যাত্রী তোলা এবং সময়ক্ষেপণ নিয়েও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে, ইজিবাইককে ঘিরে রয়েছে দ্বৈত বাস্তবতা। একদিকে এটি সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও স্বস্তিদায়ক বাহন, অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও লাইসেন্স জটিলতা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, মহাসড়কে ইজিবাইক চলাচল নিষিদ্ধ হলেও অভ্যন্তরীণ সড়কে তা চালানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এগুলোর কোনো কেন্দ্রীয় লাইসেন্সিং ব্যবস্থা না থাকায় নিয়ন্ত্রণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বাস-মালিক সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ইজিবাইক দূরপাল্লার রুটে যাত্রী পরিবহন করে তাদের ব্যবসায় ক্ষতি করছে। তারা ইজিবাইক চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে রঙভিত্তিক বিভাজনের প্রস্তাব দেন—পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়নভিত্তিক আলাদা চিহ্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ সহজ করার দাবি তোলেন।“ সভায় সাধারণ যাত্রী ও সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ আসে—কিছু রুটে বাস শ্রমিকদের দ্বারা ইজিবাইক যাত্রীদের জোর করে নামানো, এমনকি লাঠিপেটার ঘটনাও ঘটছে।

একজন যাত্রীর ভাষায়,“রোগী বা শিশুদেরও নামিয়ে দেওয়া হয়। এটা অমানবিক।”জেলা প্রশাসক এ ধরনের কর্মকাণ্ডকেবেআইনি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর অবস্থান নেন। সভায় আলোচনায় উঠে আসে কিছু বাস্তবধর্মী প্রস্তাব— ইজিবাইকের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ,  বাসের নির্দিষ্ট স্টপেজ নিশ্চিত করা, ফিটনেসবিহীন শ্রমিকদের আচরণগত প্রশিক্ষণ, ইজিবাইক নিবন্ধন ও তালিকা প্রণয়ন,  এছাড়া রোগী পরিবহনসহ জরুরি সেবায় ইজিবাইকের ব্যবহার অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বাস মালিক, ইজিবাইক চালক ও যাত্রী—সব পক্ষের সমস্যা চিহ্নিত করে ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ দেবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে পরবর্তী কার্যক্রম।
সভায় বক্তারা একমত হন—ইজিবাইককে সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব নয়, আবার বাস খাতকেও টিকিয়ে রাখতে হবে। তাই সংঘাত নয়, প্রয়োজন সমন্বয়। চুয়াডাঙ্গার এই সংকট এখন কেবল পরিবহন সমস্যা নয়, এটি জনস্বার্থ, জীবিকা ও সেবার ভারসাম্যের প্রশ্ন। প্রশাসনের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, ড়এখন সেদিকেই তাকিয়ে জেলাবাসী।