হাসাদাহ বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমপি আমির হামজার শ্যালক ও চালককে মারধরের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১২:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৯২ বার পড়া হয়েছে
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার শ্যালক ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এমপির শ্যালক আবু বকর সিদ্দিক এবং গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আবু বকর সিদ্দিক জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুরে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে সংসদ সদস্য আমির হামজা পৃথক একটি গাড়িতে এবং তিনি তার বোনসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অন্য একটি গাড়িতে জীবননগরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে হাসাদাহ বাজার এলাকায় পৌঁছালে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক তাদের গাড়ির সামনে ধীরগতিতে চলতে থাকে। একাধিকবার হর্ন দেওয়ার পরও ইজিবাইকটি রাস্তা না ছাড়ায় গাড়িচালক নিচে নেমে চালকের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ইজিবাইকচালক বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে রিমন, মোস্তাকসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। নিজেকে সংসদ সদস্য আমির হামজার শ্যালক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তার মুখে আঘাত করে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/02/চুয়াডাঙ্গা-জেলা-পরিষদের/
এ সময় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আবু বকর সিদ্দিক আরও দাবি করেন, হামলায় জড়িতরা আওয়ামী লীগের সমর্থক বা দোসর হিসেবে এলাকায় পরিচিত। আহত গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেন বলেন, হাসাদাহ বাজার এলাকায় একটি লোকাল বাস ও একটি ইজিবাইক যাত্রী ওঠানো-নামানো করছিল। হর্ন দেওয়ার পরও রাস্তা না পেয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন তিনি। পরে আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ইজিবাইকচালককে রাস্তার মাঝখানে যাত্রী ওঠানো-নামানোর বিষয়ে সতর্ক করলে এমপির গাড়ির স্টিকার দেখে কয়েকজন ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং হামলা চালায়। এতে তিনি ও আবু বকর সিদ্দিক আহত হন।
ঘটনার বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, “আমরা কর্মসূচি শেষে জীবননগরের উদ্দেশে ফিরছিলাম। আমার শ্যালক ও স্ত্রী ছিলেন সামনের গাড়িতে, আমি ছিলাম পেছনের গাড়িতে। পরে ফোনে বিষয়টি জানতে পেরে থানা পুলিশকে অবহিত করি।”
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/02/খানজাহান-আলী-মাজারের-দিঘ/
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারি রিমন, মোস্তাকসহ কয়েকজন আমার চালক ও শ্যালকের ওপর চড়াও হয়েছে। আমার শ্যালককে রক্তাক্ত করা হয়েছে, চালককেও মারধর করা হয়েছে। জানতে পেরেছি রিমন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। গাড়িতে সংসদ সদস্যের স্টিকার ও নাম লেখা থাকার পরও তারা এ হামলা চালিয়েছে। পরে তারা ক্ষমা চেয়েছে। তবে আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তাই আমরা আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/02/কলাপাড়ায়-নারীকে-ইভটিজি/
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, সামান্য যানজট ও কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে এমন সহিংস ঘটনা উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।




















