ঘুম ভাঙেনি আর সোহানার
জীবননগরে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শোকে স্তব্ধ পরিবার
- আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে
রোববার রাতেও পরিবারের সবার সঙ্গে বসে রাতের খাবার খেয়েছিল ছোট্ট সোহানা। মা ভেবেছিলেন, মেয়েটা হয়তো ক্লান্ত হয়ে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু ভোরের আলো ফুটতেই সেই ঘুম যেন চিরদিনের হয়ে যায়। দরজা ভেঙে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান—ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহানা খাতুনের নিথর দেহ।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/08/চুয়াডাঙ্গা-জেলা-কারাগার/
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার পেয়ারাতলা গ্রামে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত সোহানা খাতুনের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। সে উপজেলার বেনীপুর গ্রামের মোল্লা আব্দুর জব্বারের মেয়ে। পরিবারসহ পেয়ারাতলা গ্রামের ফুলতলা মসজিদ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তারা।
পরিবার জানায়, রোববার রাত ১০টার দিকে সোহানা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায়। এরপর দরজা বন্ধ করে দেয় সে। পরিবারের কেউ তখন বুঝতে পারেননি, তাদের সবার প্রিয় মেয়েটি হয়তো নিঃশব্দে জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। নিহতের মা সালমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “রাতে সব ঠিকই ছিল। মেয়েটা খেয়েদেয়ে নিজের ঘরে যায়। ভোরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভাঙি। পরে দেখি আমার মেয়েটা ঝুলে আছে…।”
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/08/নান্দাইলে-জলবায়ু-পরিবর্/
স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরাও ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না—হাসিখুশি একটি কিশোরীর জীবন এভাবে হঠাৎ থেমে যেতে পারে।
খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার সকালে মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন,
“প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।” তবে কী কারণে এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিল কিশোরী সোহানা—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো খুঁজে ফিরছে পরিবার ও স্থানীয়রা। একটি প্রাণবন্ত কিশোরীর অকাল মৃত্যু যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, নীরব কষ্টগুলো অনেক সময় চোখে দেখা যায় না।




















