ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
পশ্চিমবঙ্গের পান্ডুয়া মাঠে গরু নিয়ে গিয়ে বজ্রপাতে ১ জন নিহত! মুম্বইয়ের ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে উল্টে গেল গাড়ি, ২ জন নিহত শিল্প বর্জ্যের বিষাক্ত দূষণে বিপর্যস্ত বসুন্দিয়া ও আশপাশের জনজীবন মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যাহ্নভোজ শূন্য পদ ৪ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি: সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর ওয়াসিম হত্যা মামলায় হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে হুমকিতে মহিপুর সেতু, ঝুঁকিতে রংপুর-কাকিনা সড়ক আলমডাঙ্গায় মাদকসেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড

অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়ি ফিরছিলেন ইঞ্জিনিয়ার ছেলে, বাড়ি পৌঁছানোর আগেই নিভে গেল জীবনের প্রদীপ

বশিরুল আলম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা:
  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ৮৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মায়ের মুখটি আর একবার দেখবেন, অসুস্থ মায়ের কপালে হাত রেখে বলবেন—“মা, আমি এসেছি।” সেই আকুলতা নিয়েই ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দীন খান (৩৮)। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, মায়ের কাছে পৌঁছানোর আগেই থেমে গেল তার জীবনের পথচলা। শেষ দেখা আর হলো না মা-ছেলের।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের একটি পাবলিক টয়লেট থেকে ফরিদ উদ্দীনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত ফরিদ উদ্দীন খান দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের চারুলিয়া গ্রামের খানপাড়ার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/18/আলমডাঙ্গায়-দুর্নীতিবির/

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে ফরিদের মা অসুস্থ হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে বুধবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে এসে হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা অনুভব করলে একটি পাবলিক টয়লেটে প্রবেশ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাইরে না আসায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/18/বৈরী-আবহাওয়ায়-দৌলতদিয়/

পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে টয়লেটের ভেতর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম জানান, ফরিদ উদ্দীন একজন ভদ্র ও মেধাবী মানুষ ছিলেন। তিনি নিজেও কিছুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে ছুটে আসছিলেন বাড়িতে।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম খেলায় মায়ের কাছে পৌঁছানোর আগেই তার জীবনাবসান ঘটে। দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/18/শাহজাদপুরে-নদী-ভাঙন-ও-দুর/

এদিকে ফরিদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চারুলিয়া গ্রামে শোকের মাতম শুরু হয়। যে সন্তান মায়ের অসুস্থতার খবরে ব্যাকুল হয়ে ছুটে এসেছিলেন, সেই সন্তানের নিথর দেহই শেষ পর্যন্ত দেখতে হলো মাকে। এমন বেদনাদায়ক ঘটনায় স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের চোখে নেমে আসে অশ্রুধারা। জীবনের কত পরিকল্পনা, কত স্বপ্ন আর কত দায়িত্ব নিয়ে পথ চলছিলেন ফরিদ উদ্দীন।

কিন্তু মৃত্যুর অমোঘ ডাকে সবকিছু থেমে গেল এক মুহূর্তে। অসুস্থ মায়ের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে বাড়ি ফেরা হলো না তার; বরং নিজেই ফিরে গেলেন না ফেরার দেশে। মা-ছেলের এই অপূর্ণ সাক্ষাৎ আজও হৃদয় ভারাক্রান্ত করে তুলছে পুরো এলাকাবাসীকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়ি ফিরছিলেন ইঞ্জিনিয়ার ছেলে, বাড়ি পৌঁছানোর আগেই নিভে গেল জীবনের প্রদীপ

আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

মায়ের মুখটি আর একবার দেখবেন, অসুস্থ মায়ের কপালে হাত রেখে বলবেন—“মা, আমি এসেছি।” সেই আকুলতা নিয়েই ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দীন খান (৩৮)। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, মায়ের কাছে পৌঁছানোর আগেই থেমে গেল তার জীবনের পথচলা। শেষ দেখা আর হলো না মা-ছেলের।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের একটি পাবলিক টয়লেট থেকে ফরিদ উদ্দীনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত ফরিদ উদ্দীন খান দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের চারুলিয়া গ্রামের খানপাড়ার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/18/আলমডাঙ্গায়-দুর্নীতিবির/

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে ফরিদের মা অসুস্থ হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে বুধবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে এসে হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা অনুভব করলে একটি পাবলিক টয়লেটে প্রবেশ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাইরে না আসায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/18/বৈরী-আবহাওয়ায়-দৌলতদিয়/

পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে টয়লেটের ভেতর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম জানান, ফরিদ উদ্দীন একজন ভদ্র ও মেধাবী মানুষ ছিলেন। তিনি নিজেও কিছুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে ছুটে আসছিলেন বাড়িতে।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম খেলায় মায়ের কাছে পৌঁছানোর আগেই তার জীবনাবসান ঘটে। দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/18/শাহজাদপুরে-নদী-ভাঙন-ও-দুর/

এদিকে ফরিদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চারুলিয়া গ্রামে শোকের মাতম শুরু হয়। যে সন্তান মায়ের অসুস্থতার খবরে ব্যাকুল হয়ে ছুটে এসেছিলেন, সেই সন্তানের নিথর দেহই শেষ পর্যন্ত দেখতে হলো মাকে। এমন বেদনাদায়ক ঘটনায় স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের চোখে নেমে আসে অশ্রুধারা। জীবনের কত পরিকল্পনা, কত স্বপ্ন আর কত দায়িত্ব নিয়ে পথ চলছিলেন ফরিদ উদ্দীন।

কিন্তু মৃত্যুর অমোঘ ডাকে সবকিছু থেমে গেল এক মুহূর্তে। অসুস্থ মায়ের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে বাড়ি ফেরা হলো না তার; বরং নিজেই ফিরে গেলেন না ফেরার দেশে। মা-ছেলের এই অপূর্ণ সাক্ষাৎ আজও হৃদয় ভারাক্রান্ত করে তুলছে পুরো এলাকাবাসীকে।