২৫ বছরের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের অবসান: পুলিশের উদ্যোগে কেশবপুরে শান্তির নতুন সূর্যোদয়
- আপডেট সময় : ১১:৩৬:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ ২৫ বছরের বিরোধ, অসংখ্য সংঘাত, মামলা-মোকদ্দমা আর আতঙ্কের অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শান্তির পথে হাঁটল চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রাম। দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ মিটে যাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন গ্রামবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর গ্রামের ১ম পক্ষ সালাম গ্রুপ এবং ২য় পক্ষ মনসুর আলী চেংগিস খান গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় আড়াই দশক ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে আলমডাঙ্গা থানা ও বিজ্ঞ আদালতে প্রায় ২০ থেকে ২২টি মামলা চলমান রয়েছে। বহুবার সংঘর্ষ, উত্তেজনা এবং সামাজিক বিভাজনের কারণে গ্রামের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে। তবে অবশেষে সেই দীর্ঘ অন্ধকার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের আন্তরিক উদ্যোগে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/21/আলমডাঙ্গার-বড়গাংনী-ক্লা/
চুয়াডাঙ্গা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জনাব মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে শনিবার (২০ জুন) আলমডাঙ্গা থানায় উভয় পক্ষকে আলোচনার জন্য ডাকা হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে পারস্পরিক মতবিনিময়, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রতিষ্ঠা করা হয়। বহু বছরের শত্রুতা ভুলে একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দ। আবেগঘন সেই মুহূর্তে উপস্থিত অনেকের চোখে আনন্দাশ্রু দেখা যায়।
গ্রামের প্রবীণরা বলেন, “যে বিরোধে আমাদের কয়েকটি প্রজন্ম কেটে গেছে, আজ তার অবসান হলো। এটি আমাদের গ্রামের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।”সমঝোতা শেষে এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রামবাসীরা শান্তি প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। দীর্ঘদিন পর গ্রামের মানুষ নতুন করে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রত্যাশা করছেন।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/21/মুকসুদপুরে-জাল-নোট-প্রতি/
স্থানীয়রা মনে করছেন, জেলা পুলিশের এই মানবিক ও দূরদর্শী উদ্যোগ শুধু দুটি পক্ষের বিরোধ মেটায়নি, বরং একটি পুরো গ্রামকে সংঘাতের সংস্কৃতি থেকে বের করে এনে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
কেশবপুরের এই মিলনমেলা প্রমাণ করলো—আলোচনা, আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকলে বছরের পর বছর জমে থাকা দ্বন্দ্বও মুছে ফেলা সম্ভব। দীর্ঘ ২৫ বছরের বিভেদের দেয়াল ভেঙে আজ কেশবপুরে বইছে সম্প্রীতির নতুন হাওয়া; আর সেই হাওয়ায় ভেসে উঠছে একটাই প্রত্যাশা—“শান্তিই হোক গ্রামের সবচেয়ে বড় শক্তি।”






















