শরীয়তপুরে শিক্ষার্থী তানজিলা’র হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবীতে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ১২:০১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার নড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তারের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে তানজিলা আক্তারের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে নিহতের পরিবার, নড়িয়া কলেজ ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ হাতে প্লেকার্ড, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে জানানো হয়, শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার কলারগাঁও এলাকার তানজিলা আক্তারের সঙ্গে বাহির কুশিয়া এলাকার অপু বেপারীর গত ৪ জানুয়ারি সম্পর্ক করে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তানজিলার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে অপু ও তাঁর পরিবার। যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় ২৩ এপ্রিল রাতে তানজিলাকে তাঁর মাদকাসক্ত স্বামী অপু বেপারী, শশুর রাসেল বেপারী ও শাশুড়ি আলো বেগম শারীরিক নির্যাতন করে। পরে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মূলফৎগঞ্জে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। পরে তাকে বাড়িতে এনে ঘরের গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে ঝুলিয়ে রাখে তানজিলার স্বামী ও শশুর-শাশুড়ি। পরে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এঘটনায় সঠিক মামলা না নেওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
পুলিশ জানায়, মামলার পর ২৭ এপ্রিল শরীয়তপুর আদালত চত্বর থেকে তানজিলার স্বামী অপু বেপারী, শশুর রাসেল বেপারী, শাশুড়ী আলো বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২৮ এপ্রিল ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। ৩০ এপ্রিল এবিষয়ে আদালতে শুনানি কথা রয়েছে। সুরতহাল শেষে তানজিলার ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তানজিলার সঙ্গে কি হয়েছে তা বলতে পারবে পুলিশ।
নিহত তানজিলার বড় বোন শাকিলা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনকে তাঁর স্বামী অপু বেপারী ও তার শশুর রাসেল বেপারী, শাশুড়ী আলো বেগম নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যান। ঘটনার পর নড়িয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে মামলা গ্রহণে টালবাহানা করে। পরে তাদের অভিযোগ অনুযায়ী হত্যা মামলা না নিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা (ধারা ৩০৬) হিসেবে মামলা রুজু করা হয়, যা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের বোনের শেষ মুখটাও দেখতে পারিনি, জানাজাতেও দাঁড়াতে পারিনি। ন্যায়বিচারের দাবিতে আজ এখানে দাঁড়িয়েছি। মামলা গ্রহণ ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম হয়েছে। মামলাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে নেওয়া হয়েছে এবং আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাই।




















