রহস্যময় নিখোঁজের অবসান: দুই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ফিরলেন মুক্তা
- আপডেট সময় : ১০:৪৯:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
একজন মায়ের হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া, সঙ্গে দুই নিষ্পাপ শিশু— পুরো পরিবারজুড়ে নেমে এসেছিল উৎকণ্ঠা আর অজানা আশঙ্কার কালো ছায়া। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছিল উদ্বেগ, আর স্বজনদের চোখে ঘুমহীন রাতের দীর্ঘ ছাপ। অবশেষে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নিরলস অভিযানে মিলেছে স্বস্তির খবর। রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া হাফসা জাহান মুক্তা ও তার দুই সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/24/দর্শনা-থানা-পুলিশের-হাতে/
জানা যায়, গত ১৫ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ সকাল আনুমানিক ১২টার দিকে হাফসা জাহান মুক্তা তার দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনা-ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে ইব্রাহিমাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এরপর থেকেই তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েন। পরদিন ১৬ মে মুক্তার স্বামী চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় উপস্থিত হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তে নামে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/24/রাজশাহীতে-চাহিদা-বাড়ছে/
চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান-এর তত্ত্বাবধানে এবং চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান-এর নেতৃত্বে এসআই শরীফুজ্জামান ও এএসআই শ্রী রমেন কুমার সরকারসহ পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করেন। অবশেষে সদর থানাধীন শ্রীকোল গ্রামের ওয়ায়েছিয়া পাক দরবার শরীফ থেকে মুক্তা ও তার দুই সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ কয়েকদিনের উৎকণ্ঠা শেষে স্বজনদের মাঝে ফিরে আসে স্বস্তি ও আনন্দের অশ্রু। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাফসা জাহান মুক্তা পুলিশকে জানান, তিনি সুফিবাদে বিশ্বাসী।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/24/চুয়াডাঙ্গায়-পুলিশ-ম্যা/
এ বিষয়টি তার স্বামীর অপছন্দ হওয়ায় মানসিক অশান্তির মধ্যে তিনি সন্তানদের নিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।পুলিশের এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে মা ও শিশুদের নিরাপদে উদ্ধার করতে পারায় আবারও প্রমাণ হয়েছে— মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সবসময়ই আন্তরিক ও সচেষ্ট।




















