চুয়াডাঙ্গায় বিজিবির ব্যারাক থেকে নায়েকের মরদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০২:১৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) ব্যারাক থেকে আজিজুর রহমান নামের এক বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর একজন সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু নতুন করে সামনে এনেছে মানসিক স্বাস্থ্য, কর্মক্ষেত্রের চাপ ও ব্যক্তিগত সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/07/ডুমুরিয়ায়-স্ত্রীকে-পুড/
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ব্যারাকের একটি কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আজিজুর রহমান চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি)-এ নায়েক পদে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি দায়িত্বশীল ও শান্ত স্বভাবের সদস্য হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “নিহত সদস্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, ব্যারাকের একটি কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থলে রশি ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/07/বিএমইউজে-ফেনী-জেলা-কমিটি/
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।তিনি আরও বলেন, “বিজিবির পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে যে, নায়েক আজিজুর রহমান মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এ কারণেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”ঘটনার পরপরই পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/07/দল-বাঁচলে-সবাই-বাঁচবে-আ/
এদিকে, একজন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যের এমন করুণ মৃত্যু স্থানীয়দের মাঝেও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দায়িত্বের কঠোরতা, পরিবার থেকে দূরে থাকা, মানসিক চাপ ও নীরব যন্ত্রণার বিষয়গুলো আবারও আলোচনায় এসেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, বাহিনীগুলোতে কর্মরত সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও কার্যকর উদ্যোগ ও কাউন্সেলিং ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। চুয়াডাঙ্গাবাসী এখন অপেক্ষায়—তদন্ত শেষে বেরিয়ে আসবে কি এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য, নাকি এটি শুধুই এক নীরব মানসিক যন্ত্রণার করুণ পরিণতি।




















