ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
আগুন থেকে বাঁচতে ভবন থেকে ঝাঁপ, লখনৌতে নিহত ১১ আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য চোরাইকৃত মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার পদ্মা নদীতে চাঁদাবাজির সময় দুই যুবক আটক, নগদ টাকা ও ট্রলার জব্দ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা সফল, ৬০ দিনের রোডম্যাপে সমঝোতা: শেহবাজ শরিফ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিতর্কের মুখে তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিচারাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র: খন্দকার মোঃ আছাদুজ্জামান ২৩ জুন সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে এনসিপি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে গাঁজা সেবনের অভিযোগে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ মাদারীপুরে চলাচলের পথ বন্ধের অভিযোগে সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা

উপকূলীয় মানুষের জীবন এখনো প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ: কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু

মোঃ উজ্জ্বল হোসেন
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় আইলা, সিডর ও আম্ফানের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর উপকূলবাসীর জীবন-জীবিকা, বাসস্থান এবং জীববৈচিত্র্যে যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তার অনেকটাই এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে আয়োজিত ‘উপকূলের কণ্ঠ: জলবায়ু সহনশীলতার অভিযাত্রা’ শীর্ষক ফটো প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, খুলনা। অনুষ্ঠানে প্রশাসক ফিতা কেটে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/14/সবুজ-বাংলাদেশ-গড়ার-প্রত/

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর মানুষের জীবনসংগ্রাম আমরা যারা কাছ থেকে দেখেছি, তাদের কাছে প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া আলোকচিত্রগুলো বাস্তবতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এসব ছবিতে মানুষের দুর্ভোগ, সংগ্রাম এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার লড়াই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।” তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রশাসক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।” অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর-খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহীম মো. তৈমুর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুরাইয়া সিদ্দিকা, ইউএনডিপি বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন মো. আব্দুল কাইয়ুম এবং প্রকল্পের ন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল হান্নানসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/13/সাজা-শেষ-হলেও-দেশে-ফেরা-হয/

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, সুপেয় পানির সংকট, কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং জীবিকায়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আরও সক্ষম করে তুলতে হবে। আয়োজকরা জানান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ যৌথভাবে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর অর্থায়নে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং লবণাক্ততার বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা করা।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/13/নান্দাইলে-ব্র্যাকের-উদ্য/

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পন্ন হলে পাঁচটি উপজেলার প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার ২২৯ জন মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠান শেষে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া আলোকচিত্রী এবি রশীদের তোলা বিভিন্ন আলোকচিত্র ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন। তিনি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম, দুর্যোগ-পরবর্তী বাস্তবতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরার জন্য আলোকচিত্রী ও আয়োজকদের প্রশংসা করেন। প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরাও ছবিগুলো গভীর আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন এবং উপকূলীয় মানুষের জীবনসংগ্রামের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

উপকূলীয় মানুষের জীবন এখনো প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ: কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু

আপডেট সময় : ০১:৩৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় আইলা, সিডর ও আম্ফানের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর উপকূলবাসীর জীবন-জীবিকা, বাসস্থান এবং জীববৈচিত্র্যে যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তার অনেকটাই এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে আয়োজিত ‘উপকূলের কণ্ঠ: জলবায়ু সহনশীলতার অভিযাত্রা’ শীর্ষক ফটো প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, খুলনা। অনুষ্ঠানে প্রশাসক ফিতা কেটে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/14/সবুজ-বাংলাদেশ-গড়ার-প্রত/

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর মানুষের জীবনসংগ্রাম আমরা যারা কাছ থেকে দেখেছি, তাদের কাছে প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া আলোকচিত্রগুলো বাস্তবতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এসব ছবিতে মানুষের দুর্ভোগ, সংগ্রাম এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার লড়াই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।” তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রশাসক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।” অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর-খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহীম মো. তৈমুর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুরাইয়া সিদ্দিকা, ইউএনডিপি বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন মো. আব্দুল কাইয়ুম এবং প্রকল্পের ন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল হান্নানসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/13/সাজা-শেষ-হলেও-দেশে-ফেরা-হয/

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, সুপেয় পানির সংকট, কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং জীবিকায়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আরও সক্ষম করে তুলতে হবে। আয়োজকরা জানান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ যৌথভাবে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর অর্থায়নে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং লবণাক্ততার বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা করা।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/13/নান্দাইলে-ব্র্যাকের-উদ্য/

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পন্ন হলে পাঁচটি উপজেলার প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার ২২৯ জন মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠান শেষে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া আলোকচিত্রী এবি রশীদের তোলা বিভিন্ন আলোকচিত্র ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন। তিনি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম, দুর্যোগ-পরবর্তী বাস্তবতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরার জন্য আলোকচিত্রী ও আয়োজকদের প্রশংসা করেন। প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরাও ছবিগুলো গভীর আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন এবং উপকূলীয় মানুষের জীবনসংগ্রামের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।