ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
আগুন থেকে বাঁচতে ভবন থেকে ঝাঁপ, লখনৌতে নিহত ১১ আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য চোরাইকৃত মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার পদ্মা নদীতে চাঁদাবাজির সময় দুই যুবক আটক, নগদ টাকা ও ট্রলার জব্দ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা সফল, ৬০ দিনের রোডম্যাপে সমঝোতা: শেহবাজ শরিফ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিতর্কের মুখে তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিচারাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র: খন্দকার মোঃ আছাদুজ্জামান ২৩ জুন সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে এনসিপি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে গাঁজা সেবনের অভিযোগে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ মাদারীপুরে চলাচলের পথ বন্ধের অভিযোগে সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা

সাজা শেষ হলেও দেশে ফেরা হয়নি, শরীয়তপুর কারাগারে আটকে ১৭ ভারতীয় নাগরিক

মোহাম্মদ আহসান হাবিব, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শরীয়তপুর জেলা কারাগারে সাজা ভোগের মেয়াদ শেষ হওয়া ১৭ জন ভারতীয় নাগরিক এখনও বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। পরিচয় নিশ্চিতকরণ ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তারা নিজ দেশে ফিরতে পারছেন না বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/13/৫-বছরে-২৫-কোটি-বৃক্ষরোপণ-ক/

শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেলার পাপিয়া সুলতানা জানান, ২০২২ ও ২০২৩ সালে জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতু এলাকায় বিভিন্ন সময়ে ২০ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা ও জাজিরা থানা পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত প্রদত্ত সাজা শেষ হলেও পরিচয় যাচাই ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তারা বর্তমানে ‘রিলিজ প্রিজনার (আরপি)’ হিসেবে কারাগারে অবস্থান করছেন।

কারা সূত্রে জানা যায়, বন্দিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক সত্যেন্দ্র কুমার ও বাবুল সিং ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এবং রাজন নামে আরও একজন ২০২৫ সালের ২৯ মে কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত তিন বন্দির মরদেহ দীর্ঘ সময় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুজনের এবং একই বছরের ডিসেম্বর মাসে একজনের মরদেহ স্থানীয়ভাবে দাফন বা সৎকার করা হয়। মরদেহ সংরক্ষণ ও সৎকার বাবদ মোট ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/13/দোয়ারাবাজারে-১০-দিন-ধরে/

বর্তমানে কারাগারে থাকা ১৭ ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছেন। ভাষাগত সমস্যার কারণে তাদের অনেকেই স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এছাড়া কয়েকজন বন্দি নিয়মিত খাবার গ্রহণ করছেন না বলেও জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ, যা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ বলেন, “বর্তমানে যারা এখানে আছেন, তারা ঠিকমতো খাবার গ্রহণ ও কাপড় পরিধান করছেন না। বিষয়টি নিয়ে আমরা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবীর বলেন, “পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে বিষয়টির দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এতে বন্দিরা তাদের স্বজনদের কাছে এবং নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন।”

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/13/নান্দাইলে-ব্র্যাকের-উদ্য/

চিকন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আইনজীবী আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, “বিদেশি বন্দিদের মৃত্যু হলে তাদের মরদেহ সংরক্ষণ ও সৎকারে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। তাই দ্রুত তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।” কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ কারণে বন্দিদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সাজা শেষ হলেও দেশে ফেরা হয়নি, শরীয়তপুর কারাগারে আটকে ১৭ ভারতীয় নাগরিক

আপডেট সময় : ০৪:৪২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

শরীয়তপুর জেলা কারাগারে সাজা ভোগের মেয়াদ শেষ হওয়া ১৭ জন ভারতীয় নাগরিক এখনও বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। পরিচয় নিশ্চিতকরণ ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তারা নিজ দেশে ফিরতে পারছেন না বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/13/৫-বছরে-২৫-কোটি-বৃক্ষরোপণ-ক/

শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেলার পাপিয়া সুলতানা জানান, ২০২২ ও ২০২৩ সালে জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতু এলাকায় বিভিন্ন সময়ে ২০ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা ও জাজিরা থানা পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত প্রদত্ত সাজা শেষ হলেও পরিচয় যাচাই ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তারা বর্তমানে ‘রিলিজ প্রিজনার (আরপি)’ হিসেবে কারাগারে অবস্থান করছেন।

কারা সূত্রে জানা যায়, বন্দিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক সত্যেন্দ্র কুমার ও বাবুল সিং ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এবং রাজন নামে আরও একজন ২০২৫ সালের ২৯ মে কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত তিন বন্দির মরদেহ দীর্ঘ সময় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুজনের এবং একই বছরের ডিসেম্বর মাসে একজনের মরদেহ স্থানীয়ভাবে দাফন বা সৎকার করা হয়। মরদেহ সংরক্ষণ ও সৎকার বাবদ মোট ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/13/দোয়ারাবাজারে-১০-দিন-ধরে/

বর্তমানে কারাগারে থাকা ১৭ ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছেন। ভাষাগত সমস্যার কারণে তাদের অনেকেই স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এছাড়া কয়েকজন বন্দি নিয়মিত খাবার গ্রহণ করছেন না বলেও জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ, যা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ বলেন, “বর্তমানে যারা এখানে আছেন, তারা ঠিকমতো খাবার গ্রহণ ও কাপড় পরিধান করছেন না। বিষয়টি নিয়ে আমরা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবীর বলেন, “পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে বিষয়টির দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এতে বন্দিরা তাদের স্বজনদের কাছে এবং নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন।”

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/13/নান্দাইলে-ব্র্যাকের-উদ্য/

চিকন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আইনজীবী আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, “বিদেশি বন্দিদের মৃত্যু হলে তাদের মরদেহ সংরক্ষণ ও সৎকারে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। তাই দ্রুত তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।” কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ কারণে বন্দিদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে।