ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
আগুন থেকে বাঁচতে ভবন থেকে ঝাঁপ, লখনৌতে নিহত ১১ আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য চোরাইকৃত মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার পদ্মা নদীতে চাঁদাবাজির সময় দুই যুবক আটক, নগদ টাকা ও ট্রলার জব্দ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা সফল, ৬০ দিনের রোডম্যাপে সমঝোতা: শেহবাজ শরিফ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিতর্কের মুখে তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিচারাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র: খন্দকার মোঃ আছাদুজ্জামান ২৩ জুন সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে এনসিপি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে গাঁজা সেবনের অভিযোগে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ মাদারীপুরে চলাচলের পথ বন্ধের অভিযোগে সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা

মাদকের অন্ধকার ভেদে আলোর প্রত্যয়: উজিরপুরে যুবসমাজের জাগরণ

বশিরুল আলম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা:
  • আপডেট সময় : ০২:১২:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সন্ধ্যার নরম আলো যখন ধীরে ধীরে মিশে যাচ্ছিল গ্রামের আকাশে, তখন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের খলিফাপাড়ায় জড়ো হয়েছিলেন শত শত মানুষ। কারও চোখে ছিল উদ্বেগ, কারও কণ্ঠে ছিল প্রত্যয়, আবার কারও হৃদয়ে ছিল আগামী প্রজন্মকে রক্ষার অঙ্গীকার। একটাই লক্ষ্য—মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে মুক্ত করা।

“মাদককে না বলি, সুস্থ জীবন গড়ি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৬টায় ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে সচেতন যুব সমাজ, উজিরপুর, দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এক ব্যতিক্রমী মাদকবিরোধী যুব সমাবেশ।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/14/নীলফামারীতে-৫০০-অসহায়-ম/

সমাবেশটি যেন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না; বরং এটি ছিল একটি সামাজিক আন্দোলনের সূচনা, যেখানে যুবসমাজ নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষার শপথে একত্রিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। তিনি তাঁর বক্তব্যে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন পরিবার, সমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ। মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য প্রশাসনকে জানিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। পুলিশ সুপার বিশেষভাবে তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “যুবকরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। মাদকের মতো ধ্বংসাত্মক অভ্যাস থেকে দূরে থেকে খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখতে হবে। তাহলেই গড়ে উঠবে একটি সুস্থ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।”

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/14/উপকূলীয়-মানুষের-জীবন-এখ/

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। গ্রামের প্রবীণদের পাশে তরুণদের সরব উপস্থিতি এবং মাদকবিরোধী দৃঢ় অবস্থান নতুন আশার বার্তা দিয়েছে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/14/দোয়ারাবাজারে-পরকীয়ার-জ/

সমাবেশজুড়ে ছিল মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়, সচেতনতার আহ্বান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার অঙ্গীকার। উজিরপুরের এই আয়োজন যেন প্রমাণ করল—যেখানে যুবসমাজ জেগে ওঠে, সেখানে মাদকের অন্ধকার বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। সচেতনতা, ঐক্য ও সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে একদিন গড়ে উঠবে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ—এমন আশাবাদই ব্যক্ত করেছেন উপস্থিত সবাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মাদকের অন্ধকার ভেদে আলোর প্রত্যয়: উজিরপুরে যুবসমাজের জাগরণ

আপডেট সময় : ০২:১২:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সন্ধ্যার নরম আলো যখন ধীরে ধীরে মিশে যাচ্ছিল গ্রামের আকাশে, তখন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের খলিফাপাড়ায় জড়ো হয়েছিলেন শত শত মানুষ। কারও চোখে ছিল উদ্বেগ, কারও কণ্ঠে ছিল প্রত্যয়, আবার কারও হৃদয়ে ছিল আগামী প্রজন্মকে রক্ষার অঙ্গীকার। একটাই লক্ষ্য—মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে মুক্ত করা।

“মাদককে না বলি, সুস্থ জীবন গড়ি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৬টায় ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে সচেতন যুব সমাজ, উজিরপুর, দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এক ব্যতিক্রমী মাদকবিরোধী যুব সমাবেশ।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/14/নীলফামারীতে-৫০০-অসহায়-ম/

সমাবেশটি যেন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না; বরং এটি ছিল একটি সামাজিক আন্দোলনের সূচনা, যেখানে যুবসমাজ নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষার শপথে একত্রিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। তিনি তাঁর বক্তব্যে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন পরিবার, সমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ। মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য প্রশাসনকে জানিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। পুলিশ সুপার বিশেষভাবে তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “যুবকরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। মাদকের মতো ধ্বংসাত্মক অভ্যাস থেকে দূরে থেকে খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখতে হবে। তাহলেই গড়ে উঠবে একটি সুস্থ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।”

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/14/উপকূলীয়-মানুষের-জীবন-এখ/

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। গ্রামের প্রবীণদের পাশে তরুণদের সরব উপস্থিতি এবং মাদকবিরোধী দৃঢ় অবস্থান নতুন আশার বার্তা দিয়েছে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/14/দোয়ারাবাজারে-পরকীয়ার-জ/

সমাবেশজুড়ে ছিল মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়, সচেতনতার আহ্বান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার অঙ্গীকার। উজিরপুরের এই আয়োজন যেন প্রমাণ করল—যেখানে যুবসমাজ জেগে ওঠে, সেখানে মাদকের অন্ধকার বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। সচেতনতা, ঐক্য ও সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে একদিন গড়ে উঠবে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ—এমন আশাবাদই ব্যক্ত করেছেন উপস্থিত সবাই।