চুয়াডাঙ্গায় ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রমে ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ১২:৫৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১২ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি তেলের সংকট ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে চুয়াডাঙ্গায় চালু হয়েছে ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রম। তবে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবতার বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে এই নির্দেশনা কার্যত উপেক্ষিত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বিশেষ করে যারা নিয়ম মেনে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করেছেন। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনে পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ না করার কথা। কিন্তু সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। জেলার ২২টি পাম্পেই প্রায় একই অবস্থা—কার্ড ছাড়াই চলছে অবাধে জ্বালানি বিক্রি।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/04/স্বামীর-নির্যাতনের-অভিযো/
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোররাত থেকেই বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় মোটরসাইকেল চালক ও সাধারণ গ্রাহকদের। কেউ কেউ রাত ৩টা থেকেই অপেক্ষা করছেন। একইভাবে কৃষকরাও ডিজেল সংগ্রহে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, যদিও কৃষিকাজের স্বার্থে ডিজেল সরবরাহে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ফুয়েল কার্ডধারীদের অভিযোগ, নানা ঝামেলা পেরিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহ করলেও বাস্তবে এর কোনো কার্যকারিতা নেই। বরং নিয়ম মেনে চলা ব্যক্তিরাই বঞ্চিত হচ্ছেন। মোটরসাইকেল চালক তানভির রহমান বলেন, “ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। দুই ঘণ্টা পর মাত্র ৫০০ টাকার অকটেন পেয়েছি। কিন্তু কোথাও ফুয়েল কার্ড যাচাই করতে দেখিনি। প্রায় সবাই কার্ড ছাড়াই তেল নিচ্ছে।” আরেক চালক রুহুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“অনেক কষ্ট করে ফুয়েল কার্ড নিয়েছি।
কিন্তু এখানে তার কোনো মূল্য নেই। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না, অথচ পরিচিত লোকজন ভেতর দিয়ে ঢুকে সহজেই তেল নিয়ে যাচ্ছে।”নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। ফলে পুরো কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া সকাল ৭টা থেকে তেল সরবরাহ শুরুর কথা থাকলেও অনেক পাম্পে আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই মোটরসাইকেল রেখে সিরিয়াল তৈরি করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/04/আলমডাঙ্গায়-মাদকবিরোধী-9/
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, কালোবাজারি রোধ এবং অতিরিক্ত মজুত বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুয়েল কার্ডে গ্রাহকের পূর্বে নেয়া তেলের পরিমাণ ও তারিখ উল্লেখ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্য রয়েছে। চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক উজ জামান বলেন,“প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার সব পেট্রলপাম্পে কার্ডধারীদের তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/04/2551/
কৃষিকাজের জন্য ডিজেলে কিছুটা ছাড় রয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অপচয়, অবৈধ বিক্রি ও মজুত বন্ধ করা সম্ভব হবে।”তিনি আরও জানান, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, শুধু নির্দেশনা জারি করলেই হবে না। এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যথাযথ তদারকি, কঠোর মনিটরিং এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় না আনলে ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।




















