আলমডাঙ্গায় বিদ্যুতের নির্মম ছোবল: ছাদে কাজ করতে গিয়ে ঝরে গেল তরুণ ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির প্রাণ
- আপডেট সময় : ০১:০১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ৬৮ বার পড়া হয়েছে
একটি স্বপ্ন, একটুকরো সংগ্রাম আর পরিবারের প্রতি অগাধ দায়িত্ববোধ—সবকিছুই যেন মুহূর্তেই নিভে গেল বিদ্যুতের নির্মম স্পর্শে। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বাড়ির ছাদে কাজ করার সময় উচ্চভোল্টেজের তারে স্পৃষ্ট হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান (২১) নামের এক তরুণ ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (০৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার মোচাইনগর গ্রামে ঘটে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। নিহত মোস্তাফিজুর রহমান আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের সাহেবপুর গ্রামের ব্রিজপাড়ার বাসিন্দা হাবিল রহমানের ছেলে। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় অল্প বয়সেই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন সংসারের ভার। পেশায় ছিলেন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি—নিজের ছোট্ট একটি দোকান চালিয়ে পরিবারের স্বপ্নগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন প্রতিনিয়ত।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/05/আসামের-সোনারিতে-নির্বাচন/
ঘটনার দিনও ছিল তেমনই একটি কর্মব্যস্ত দিন। মোচাইনগর গ্রামের নওদাপাড়ায় আশাবুল হকের দ্বিতীয়তলা ভবনের সিঁড়ির টিন ও লোহার ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছিলেন মোস্তাফিজুর। কাজের ফাঁকে অসাবধানতাবশত ছাদের ওপর দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে যান তিনি। মুহূর্তেই ঘটে যায় অঘটন। গাংনী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. লিমন হোসেন জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে প্রায় ১০ সেকেন্ড তিনি তারের সঙ্গে লেগে ছিলেন। এরপর ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জাফর ইকবাল বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বানী ইসরাইল জানিয়েছেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/05/বহিষ্কারের-আশ্বাসে-পদ্মব/
মোস্তাফিজুর রহমানের হঠাৎ চলে যাওয়া শুধু একটি প্রাণহানি নয়, এটি একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের করুণ গল্প। যে বয়সে স্বপ্ন দেখার কথা, সে বয়সেই জীবনের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছিলেন তিনি। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর সেই চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠলো তার জীবনের শেষ অধ্যায়। এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। গ্রামাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সচেতনতার অভাবে প্রায়ই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে নির্মাণকাজ বা ওয়েল্ডিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় কাজ করা শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত তারা জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। একটি অসাবধানতা, একটি অরক্ষিত বৈদ্যুতিক লাইন—আর তাতেই নিভে গেল একটি তরুণ প্রাণ। মোস্তাফিজুরের এই মৃত্যু শুধু তার পরিবারের নয়, আমাদের সমাজের জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা। এখন প্রশ্ন একটাই—আর কত প্রাণ গেলে আমরা সচেতন হবো?




















