বহিষ্কারের আশ্বাসে পদ্মবিলার বিএনপি নেতা হারুনের বিরুদ্ধে ডাকা মানববন্ধন স্থগিত
- আপডেট সময় : ১২:৫২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে
যশোর সদর উপজেলার ১৫নং বসুন্দিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুন-অর-রশীদকে দল থেকে বহিষ্কারের আশ্বাসে তার বিরুদ্ধে ডাকা মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করেছে স্থানীয়রা। প্রভাব বিস্তার, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দান এবং পুত্রবধূর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শনিবার বিকালে এই মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিলেন। এঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ ও সদর উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মাষ্টার হাসানুর রহমান শাকিল সহ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশীদ বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাসে মানববন্ধন স্থগিত করেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর দাবি, হারুন-অর-রশীদ এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার পুত্রবধূর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/05/শিলিগুড়িতে-আগ্নেয়াস্ত/
পদ্মবিলা গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে আব্দুল মাজেদ জানান, তার ছোট ভাই সৌদিআরব প্রবাসী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা বেগমের সাথে হারুন দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলেন। সম্প্রতি তারা আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়লে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে হারুন ও ফাতেমা উল্টো থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠে এবং শাস্তির দাবিতে পদ্মবিলা বাজারে মানববন্ধনের ডাক দেয়। বিএনপি নেতা হারুনের শাস্তির দাবীতে এলাকাবাসি মানববন্ধনের আয়োজন করলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে কর্মসূচি স্থগিত করেন এলাকাবাসী।
শনিবার বিকালে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে এলাকাবাসী জড়ো হতে শুরু করলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় পদ্মবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষুব্ধদের নিয়ে জরুরি সভায় বসেন দলীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় হারুন-অর-রশীদকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেওয়া হলে এলাকাবাসী আপাতত আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/05/আসামের-সোনারিতে-নির্বাচন/
এবিষয়ে অভিযুক্ত হারুন-অর-রশীদের ব্যক্তিগত মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কল কেটে দেন এবং ফোন বন্ধ করে রাখেন। অন্যদিকে, বসুন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান। একালার সাধারণ মানুষের দাবি, হারুন-অর-রশীদের মতো নৈতিক চারিত্র্যহীন ব্যক্তিকে কেবল পদ থেকে সরানোই যথেষ্ট নয়, তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।




















