ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
নীলফামারীতে ভালো কাজের স্বীকৃতি পেলেন যাঁরা চুয়াডাঙ্গায় ২শ’ শিক্ষার্থীর হাতে বসুন্ধরা শুভসংঘের গাছের চারা আগুন থেকে বাঁচতে ভবন থেকে ঝাঁপ, লখনৌতে নিহত ১১ আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য চোরাইকৃত মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার পদ্মা নদীতে চাঁদাবাজির সময় দুই যুবক আটক, নগদ টাকা ও ট্রলার জব্দ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা সফল, ৬০ দিনের রোডম্যাপে সমঝোতা: শেহবাজ শরিফ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিতর্কের মুখে তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিচারাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র: খন্দকার মোঃ আছাদুজ্জামান ২৩ জুন সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে এনসিপি

ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ, জীবননগরে বিদেশ ফেরত যুবকের বাজিমাত

বশিরুল আলম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

“বিদেশ নয়, নিজের মাটিতেই সম্ভাবনা”—একটি বাক্য, কিন্তু এর ভেতর লুকিয়ে আছে স্বপ্ন, সাহস আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। সেই গল্পের নায়ক চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ শাওন ইসলাম। দীর্ঘ এক দশক প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহারাইন-এ। পরিশ্রম ছিল, আয়ও ছিল—তবুও মনে ছিল এক অদম্য টান, নিজের মাটিতে কিছু করার আকাঙ্ক্ষা। অবশেষে সেই টানেই দেশে ফেরা। কিন্তু ফিরে এসে অনেকের মতো স্থির হয়ে বসে থাকেননি শাওন। বরং শুরু করলেন নতুন এক যাত্রা—জ্ঞানকে হাতিয়ার করে কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর প্রয়াস।ইন্টারনেট আর YouTube-কে সঙ্গী করে শুরু হয় তার শেখার গল্প। আঙুর চাষ—যা একসময় এ অঞ্চলে ছিল প্রায় অকল্পনীয়—সেই চ্যালেঞ্জই গ্রহণ করেন তিনি। দিনরাত ভিডিও দেখে, নোট করে, পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে অবশেষে গড়ে তোলেন নিজের স্বপ্নের বাগান।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/27/চুয়াডাঙ্গায়-জেলা-পুলিশ/

জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের পনেরশতি পাড়া বাগমারা মাঠে প্রায় ৮ বিঘা জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ। সারি সারি লতানো গাছে ঝুলছে সবুজ ও বেগুনি আঙুরের থোকা—যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। শুধু আঙুরেই থেমে থাকেননি শাওন। তার বাগানে জায়গা পেয়েছে ড্রাগন ফল, মাল্টা ও পেয়ারা—বহুমুখী ফলচাষের এক অনন্য উদাহরণ। প্রতিটি গাছ যেন তার পরিশ্রম, ধৈর্য আর আত্মবিশ্বাসের নিঃশব্দ সাক্ষী।স্থানীয়দের কাছে এই বাগান এখন শুধু একটি খামার নয়—এটি এক অনুপ্রেরণার কেন্দ্র। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এই বাগান দেখতে, জানতে, শিখতে। অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন—“আমরাও পারি”।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/27/চুয়াডাঙ্গায়-যুবককে-কুপ/

শাওন ইসলাম বলেন, “বিদেশে অনেক কষ্ট করেছি। কিন্তু নিজের দেশে নিজের কিছু করার আনন্দ আলাদা। ইউটিউবই ছিল আমার শিক্ষক। এখন চাই, আমার এই উদ্যোগ দেখে অন্যরাও এগিয়ে আসুক।”তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকার বেকার যুবকদের মাঝে নতুন স্বপ্নের বীজ বুনছে। যেখানে অনেকেই বিদেশমুখী, সেখানে শাওনের গল্প যেন উল্টো স্রোতে হাঁটার সাহস জোগায়।কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে বাংলাদেশের মাটিতে আঙুরসহ বিভিন্ন বিদেশি ফলের চাষ সম্ভব। আর সেই সম্ভাবনারই এক জীবন্ত উদাহরণ শাওনের এই বাগান। জীবননগরের এই ছোট্ট গ্রাম এখন যেন বড় এক বার্তা দিচ্ছে—স্বপ্ন দেখার জন্য দূরে যেতে হয় না, দরকার শুধু সাহস আর সঠিক দিকনির্দেশনা।মোহাম্মদ শাওন ইসলামের এই গল্প তাই শুধু সফলতার নয়—এটি প্রত্যাবর্তনের, আত্মবিশ্বাসের এবং নিজের শিকড়ে ফিরে এসে নতুন করে জীবন গড়ার এক অনন্য কাব্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ, জীবননগরে বিদেশ ফেরত যুবকের বাজিমাত

আপডেট সময় : ০৪:১১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

“বিদেশ নয়, নিজের মাটিতেই সম্ভাবনা”—একটি বাক্য, কিন্তু এর ভেতর লুকিয়ে আছে স্বপ্ন, সাহস আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। সেই গল্পের নায়ক চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ শাওন ইসলাম। দীর্ঘ এক দশক প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহারাইন-এ। পরিশ্রম ছিল, আয়ও ছিল—তবুও মনে ছিল এক অদম্য টান, নিজের মাটিতে কিছু করার আকাঙ্ক্ষা। অবশেষে সেই টানেই দেশে ফেরা। কিন্তু ফিরে এসে অনেকের মতো স্থির হয়ে বসে থাকেননি শাওন। বরং শুরু করলেন নতুন এক যাত্রা—জ্ঞানকে হাতিয়ার করে কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর প্রয়াস।ইন্টারনেট আর YouTube-কে সঙ্গী করে শুরু হয় তার শেখার গল্প। আঙুর চাষ—যা একসময় এ অঞ্চলে ছিল প্রায় অকল্পনীয়—সেই চ্যালেঞ্জই গ্রহণ করেন তিনি। দিনরাত ভিডিও দেখে, নোট করে, পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে অবশেষে গড়ে তোলেন নিজের স্বপ্নের বাগান।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/27/চুয়াডাঙ্গায়-জেলা-পুলিশ/

জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের পনেরশতি পাড়া বাগমারা মাঠে প্রায় ৮ বিঘা জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ। সারি সারি লতানো গাছে ঝুলছে সবুজ ও বেগুনি আঙুরের থোকা—যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। শুধু আঙুরেই থেমে থাকেননি শাওন। তার বাগানে জায়গা পেয়েছে ড্রাগন ফল, মাল্টা ও পেয়ারা—বহুমুখী ফলচাষের এক অনন্য উদাহরণ। প্রতিটি গাছ যেন তার পরিশ্রম, ধৈর্য আর আত্মবিশ্বাসের নিঃশব্দ সাক্ষী।স্থানীয়দের কাছে এই বাগান এখন শুধু একটি খামার নয়—এটি এক অনুপ্রেরণার কেন্দ্র। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এই বাগান দেখতে, জানতে, শিখতে। অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন—“আমরাও পারি”।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/27/চুয়াডাঙ্গায়-যুবককে-কুপ/

শাওন ইসলাম বলেন, “বিদেশে অনেক কষ্ট করেছি। কিন্তু নিজের দেশে নিজের কিছু করার আনন্দ আলাদা। ইউটিউবই ছিল আমার শিক্ষক। এখন চাই, আমার এই উদ্যোগ দেখে অন্যরাও এগিয়ে আসুক।”তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকার বেকার যুবকদের মাঝে নতুন স্বপ্নের বীজ বুনছে। যেখানে অনেকেই বিদেশমুখী, সেখানে শাওনের গল্প যেন উল্টো স্রোতে হাঁটার সাহস জোগায়।কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে বাংলাদেশের মাটিতে আঙুরসহ বিভিন্ন বিদেশি ফলের চাষ সম্ভব। আর সেই সম্ভাবনারই এক জীবন্ত উদাহরণ শাওনের এই বাগান। জীবননগরের এই ছোট্ট গ্রাম এখন যেন বড় এক বার্তা দিচ্ছে—স্বপ্ন দেখার জন্য দূরে যেতে হয় না, দরকার শুধু সাহস আর সঠিক দিকনির্দেশনা।মোহাম্মদ শাওন ইসলামের এই গল্প তাই শুধু সফলতার নয়—এটি প্রত্যাবর্তনের, আত্মবিশ্বাসের এবং নিজের শিকড়ে ফিরে এসে নতুন করে জীবন গড়ার এক অনন্য কাব্য।