গ্রেপ্তারের পর বরখাস্ত শাহজাদপুরের পিআইও আবুল কালাম আজাদ
- আপডেট সময় : ০২:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ৮৯ বার পড়া হয়েছে
দুদকের দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মন্ত্রনালয়। ৭ মে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান স্বাক্ষরিতপত্রে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও বিষয়টি এতোদিন গোপন রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গোপন এক সংবাদে বুধবার দুপুরে (২০ মে) তা ফাঁস হয়ে গেলে ডিআরআরও এর সত্যতা স্বীকার করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। এ মামলার বিচারকাজ শেষ না পর্যন্ত তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতাদি প্রাপ্য হবেন। ৪ মে গ্রেপ্তারের দিন থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে। এরআগে ৩ মে রাতে পাবনার নিজ বাসা থেকে দুদকের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আবুল কালাম আজাদ ৩ বারে দীর্ঘ ১৪ বছর শাহজাদপুর উপজেলায় পিআইও হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/21/নারায়ণগঞ্জে-ইউনিয়ন-বিএ/
এ প্রসঙ্গে বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ বলেন, বিষয়টি আমরা আগেই মৌখিকভাবে জেনেছিলাম। কিন্তু অফিশিয়াল চিঠি আজই পেয়েছি। মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৮ মে আবুল কালাম আজাদ, তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ও ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধে সম্পদের হিসাব দাখিলের আদেশ দেয় দুদক। আবুল কালাম আজাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা ৩ জুলাই সম্পদের হিসাব দাখিল করেন।
২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পিআইও আবুল কালাম আজাদ ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন স্বামীর অবৈধ আয় দ্বারা ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন পূর্বক ভোগ দখলে রাখার প্রমান পায় দুদক। যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করায় দুদক আইনের ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা এবং দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়াও ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধে বাবার অবৈধ ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ভোগ দখলের অভিযোগ আনা হয়।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/21/গুয়াহাটি-মহানগরে-নবজাতক/
অপরদিকে, পিআইও আবুল কালাম আজাদের শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের নামে অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পায় দুদক কর্মকর্তারা। পরে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তার নামে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করা হয়। একই বছরের ৮ ডিসেম্বর ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও ১ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ১৮২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অর্জনের হিসাব দাখিল করেন তিনি। অনুসন্ধানকালে জামাল উদ্দিন ফকিরের নামে ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ১৮২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পায় দুদক। এরপর ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদি হয়ে আরও একটি মামলা করেন। এতে শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরকে প্রধান ও আবুল কালাম আজাদকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়।
এ অবস্থায় ৩ মে রাতে দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি টিম পাবনার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করেন। পরের দিন তাকে পাবনার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আবুল কালাম আজাদ পাবনার সুজানগর উপজেলার হাসামপুর গ্রামের শমসের আলীর ছেলে।




















